শার্শার আলোচিত গৃহবধূ ‘গণধর্ষণ’ একজনের নামে পিবিআই’র চার্জশিট, ২ জনকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের শার্শার এক গৃহবধূ ধর্ষণের আলোচিত মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার্জশিটে আব্দুল লতিফ নামে এক জনকে অভিযুক্ত এবং অপর দুইজনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। পিবিআই’র পরিদর্শক মোনায়েম হোসেন যশোর আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর যশোরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না পেয়ে গোড়পাড়া ক্যাম্পের তৎকালীন ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলমসহ দুজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এছাড়া আরো দু’জন তার ঘরের বাইরে পাহারায় দিয়েছিলেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় শার্শা থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী এসআই খায়রুল আলমকে বাদ দিয়ে অপর তিনজনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় মামলা করেন।
ওই মামলার আসামিরা হলো, লক্ষণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল কাদের, আব্দুল মাজেদের ছেলে আব্দুল লতিফ এবং চটকাপোতা গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে (ভুক্তভোগী নারীর চাচাতো দেবর) কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল।
মামলাটি প্রথমে শার্শা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ফরিদ ভূঁইয়া তদন্তের দায়িত্ব পান। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকেই আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্পর্শকাতর এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান পরিদর্শক মোনায়েম হোসেন। তদন্ত চলাকালে আসামি আব্দুল লতিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
অপরদিকে পিবিআই এজাহারভুক্ত তিন আসামি ছাড়াও এসআই খায়রুল আলম এবং তার ২ সোর্সের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠান। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে শুধুমাত্র আব্দুল লতিফের ডিএনএ এর নমুনার সাথে মিল পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তদন্তে এসআই খায়রুল আলম এবং এজাহারভুক্ত অপর দুই আসামি আব্দুল কাদের ও কামরুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অথবা ঘটনার সময় ওই এলাকায় উপস্থিত থাকার কোন প্রমাণ পায়নি তদন্ত কর্মকর্তা। ফলে আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

শেয়ার