চৌগাছায় স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদে গৃহবধূকে নির্যাতন
অভিযুক্ত তিন নারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বাসার মালিকের বাড়ির স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদ দিয়ে যশোরের চৌগাছায় এক গৃহবধূকে (৩৫) ও তার মেয়ে শিশুকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। এসময় ওই নারীর মাথার চুল কাটতে তার স্বামীকে বাধ্য করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই নারীর স্বামী চৌগাছা থানায় মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার মামলার আসামি চৌগাছা কারিগর পাড়ার জাফর ইমামের স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া (৪৫) ও তার দুই মেয়ে জান্নাত আরা ইমাম (২৪) ও সুমাইয়া ফারজানাকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। দুপুরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে চৌগাছা পৌরসভার কারিগর পাড়ার জাফর ইমামের বাড়িতে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আহত ওই নারী ও তার মেয়েকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, বাড়ির মালিকের বাসা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন হারিয়ে যায়। ওই নারীর তাদের বাসায় যাতায়াত থাকায় সন্দেহ করেন। এক পর্যায়ে স্বর্ণের চেইন চুরি করেছে বলে বাসার মালিকের স্ত্রী ও দুই মেয়ে নির্যাতন করেছে। একই সাথে তার মাথার চুল কাটতে স্বামীকে বাধ্য করেছে। এই ঘটনায় ওই নারীর স্বামী মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বাদী ভিকটিম নারীর স্বামীর অভিযোগ, প্রায় ৮ মাস ধরে তিনি তার স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে চৌগাছা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কারিগরপাড়ার জাফর ইমামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত ২৬ জানুয়ারী তিনি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে রেখে গ্রামের বাড়ি অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামে যান। এরপর পহেলা ফেব্রুয়ারি বাড়ির মালিকের মেয়ে সুমাইয়া ফারজানা মোবাইল ফোনে জানায় তার স্ত্রী তাদের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি ভাড়া বাড়িতে এসে ভাড়াটিয়াদের সাথে স্ত্রীকে খুঁজে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয় এবং পুলিশ তার স্ত্রীকে আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বুধবার তারা ভাড়া বাড়িতে যান। সেখানে রাত ১২টার দিকে ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ও দুই মেয়ে তাদের শোবার ঘরে গিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নারীটিকে বেদম মারপিট করে। এসময় তার শিশু কন্যা কান্নাকাটি করলে জান্নাত আরা ইমাম তার গলা টিপে ধরে এবং ঘরের চৌকির সাথে আঘাত করে। তারা ওই নারীর স্বামীকে বলে, ‘হয় তোর স্ত্রীকে স্বর্ণ দিতে বল, না হলে এখনি তার মাথার চুল কেটে (ন্যাড়া করে) দিবি।’ তাদের কথা মতো, আমি চুল কাটতে অস্বীকার করলে তারা আমার শিশু কন্যাকে নিয়ে দোতলার দিকে উঠে যায় ও মারপিট করতে থাকে। এসময় মেয়ের কান্না ও স্ত্রীর আর্তচিৎকার সহ্য করতে না পেরে বলি মেয়েকে আমার কাছে নিয়ে এসো আমি স্ত্রীর চুল কেটে দিচ্ছি। এরপর তারা মেয়েকে আমার কাছে নিয়ে আসে এবং আমার হাতে একটি কাচি (কাইচি) দিয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দিতে বাধ্য করে। আমি বাধ্য হয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দেয়ার পরও তারা কোদালের আছাড় দিয়ে আমাদের তিনজনকে মারপিট করে। পরে আমাদের আর্তচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোর বাসিন্দারা এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে জানালে এবিষয়ে মামলা হয়।

শেয়ার