জিন-সম্পাদনা করে শিশু জন্ম দেওয়া সেই বিজ্ঞানীর জেল

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মানব ভ্রুণে এইডস আক্রান্ত জিনের পরিবর্তন ঘটিয়ে বিশ্বে প্রথম জমজ দুই শিশু কন্যার জন্ম দেওয়ার দাবি করা চীনের সেই বিজ্ঞানী হে জিয়াংকুই কে তিন বছরের জেল দিয়েছে আদালত।
চীনে মানব ভ্রুণের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে শিশু জন্ম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং আইনবহির্ভূত। ফলে একাজ করায় জিয়াংকুইকে আইন ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে চীনের শেনঝেন আদালত।
কারাদ-ের পাশাপাশি জিয়াংকুইকে ৩০ লাখ ইউয়ান (৪৩০,০০০) জরিমানাও করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
একইসঙ্গে জিয়াংকুইয়ের গবেষণা টীমের আরো দুইজনকেও কারাদ- দিয়েছে এবং জরিমানা করেছে আদালত।
চীনের শেনঝেনে ‘সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি’র বিজ্ঞানী জিয়াংকুই গতবছর নভেম্বরে প্রথম জিন-সম্পাদিত শিশু জন্ম দিতে সফল হওয়ার দাবি করার পর ব্যাপক নিন্দা-সমালোচনার মুখে এ নিয়ে সাফাই দেন।
হংকংয়ের একটি জিনোম সম্মেলনে প্রফেসর জিয়াংকুই বলেছিলেন, শিশু দুটি যাতে তাদের বাবা-মা’য়ের কাছ থেকে এইডস রোগে আক্রান্ত না হতে পারে সে কারণেই তিনি মায়ের গর্ভেই তাদের জিন সম্পাদনা করেছেন এবং একাজ করে তিনি গর্বিত।
ওই শিশু দুটি জন্মের একই সময়ে তৃতীয় আরেকটি শিশুরও জন্ম হওয়ার খবর জানিয়েছে সিনহুয়া। গুয়াংডন প্রদেশের স্থানীয় সরকার শিশুগুলোকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছে।
চীনা আদালত রায়ে বলেছে, “ওই বিজ্ঞানী ব্যক্তিগত খ্যাতি এবং ফায়দার জন্য একাজ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি চিকিৎসা বিধি ভঙ্গ করেছেন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নৈতিকতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন।”
কোনো কোনো বিজ্ঞানীর মতে জিন সম্পাদনা ‘ভয়ঙ্কর’ ব্যাপার। এভাবে শিশুর জিন পাল্টানো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই নিষিদ্ধ। কারণ, ডিএনএ তে পরিবর্তন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মে এর প্রভাব পড়তে পারে এবং এতে অন্য জিনগুলোর ক্ষতি হওয়ারও ঝুঁকি আছে। মূল ধারার বিজ্ঞানীরাও জিন-সম্পাদনার চেষ্টা করাকে অনিরাপদ বলে মনে করেন।

শেয়ার