শরণখোলায় মাদ্রাসা সুপারের নেতৃত্বে বিধবার ঘর ভাংচুর

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় সম্পত্তি দখল নিতে এক মাদ্রাসা সুপারের নেতৃত্বে রাতের আধাঁরে নবনির্মিত একটি বসত ঘরের অব-কাঠামো কেটে খন্ড বিখন্ড করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার উত্তর খোন্তাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা সেনোয়ারা বেগম (৩৫), মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আব্দুর রহিম মোল্লার (৪০) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার পরপরই মাদ্রাসা সুপার আঃ রহিম গা ঢাকা দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সেনোয়ারা বলেন, আমার একমাত্র ছেলে রুবেল শেখ গর্ভে থাকতে স্বামী রোকন শেখ প্রায় ২৫ বছর পুর্বে মারা যান। সেই থেকে আমি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কিছু অর্থ জমাই। একমাত্র ছেলের মাথা গোঁজার ঠাঁইসহ শেষ বয়সে একটু ভাল থাকতে মা-ছেলের জমানো টাকায় ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেনের নিকট থেকে ৫নং মেড়েলাবাদ মৌজার ৬৪৯ নং খতিয়ানের ৬২৮, ৬৫৪, ৬৫৫ও ৬৫৬ নং দাগ হতে রুবেলের নামে ২০ শতক চাষাবাদের জমি ক্রয় করি । পরে ওই জমির মাটি খনন করে বসত বাড়ি তৈরির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির নানা রকম কাঠ দিয়ে একটি নুতন ঘর তৈরি করি। যাতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। স্বপ্ন ছিল অগামী ২/১ দিনের মধ্যে নুতন ঘরে ওঠার। কিন্তু ওই মাদ্রাসা সুপারে সাথে জমির মুল মালিক কামাল হোসেনের বিরোধ থাকায় সোমবার রাতে আমার বসত বাড়ির জমির দখল নিতে রহিম মাওলানার নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল জোট বেঁধে আমার নুতন তৈরি করা ঘরটির অব-কাঠামো করাত দিয়ে কেটে খন্ড বিখন্ড করে ঘরটির বিভিন্ন অংশ সরিয়ে ফেলেছে। পরবর্তীতে পুলিশ রহিম মাওলানার চাচাতো ভাই ছত্তার মোল্লার বাড়ি থেকে ঘরের কিছু অংশ উদ্ধার করেছেন। ওই সময় ছত্তার বলেন, কাঠ গুলো সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান তার বাড়িতে জমা রেখেছেন।
তবে চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, আমি কাউকে এধরনের নির্দেশ দিইনি। তবে ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা আছে। অপরদিকে, মাও. আব্দুর রহিম বলেন, ওই বিধবার বসত ঘর কে বা কারা টুকরা করেছেন তা আমার জানা নেই। জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার (ওসি) তদন্ত শেখ মফিজুর রহমান জানান, বিষটি তিনি শুনেছেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মিমাংসা করে দেবেন জানিয়েছেন।

শেয়ার