দারুণ জয় চট্টগ্রামের, লজ্জার হার রংপুরের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ দারুণ জয়ে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ শুরু করেছে চট্টগ্রাম। আর কুমিল্লার কাছে লজ্জার হার হয়েছে রংপুরের। গতকাল প্রথম দিনের দু’টি ম্যাচের চিত্র ছিল এমনই। দিনের প্রথম ম্যাচে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধনীতেই আলো ছড়িয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। দিনের প্রথম ম্যাচে ৪৮ বলে ৮৪ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেললেও জয় পায়নি তার দল সিলেট থান্ডার। ৪ উইকেটে ১৬২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করানো সিলেট ৫ উইকেটে হেরে গেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে। এমরিটের দল এক ওভার হাতে রেখে বিপিএলের বিশেষ সংস্করণ শুরু করেছে জয়ের হাসিতে।

মিরপুর স্টেডিয়ামে সিলেটের ছুঁড়ে দেওয়া ১৬৩ রানের জবাবে চট্টগ্রাম শুরুতে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল। ৬৪ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায় চট্টগ্রামের। ইমরুল কায়েস এসে হাল ধরলে সেখান থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ইমরুল এক প্রান্ত আগলে জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে যান ৩৮ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। পরে সেই মোমেন্টাম কাজে লাগিয়ে শেষ দিকে ঝড় তুলে খেলেছেন চ্যাডউইক ওয়ালটন। ৩০ বলে অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে। তাতে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করা সিলেটের স্কোর সমৃদ্ধ করেছেন মূলত মিঠুন। জনসন চার্লস শুরুটা এনে দিয়েছিলেন ভালো। ২৩ বলে ৩৫ রান করে ফিরেছেন। তার বিদায়ের পর দ্রুত আরও এক ব্যাটসম্যান ফিরলে ৬১ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে সিলেটের।
পরে মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে জুটি গড়ে মূল ভিত্তিটা দাঁড় করান মিঠুন। ঝড়ো ব্যাট করে একাই খেলতে থাকেন। ইনিংসে ৪টি চারের সঙ্গে ছিল ৫টি ছয়ের মার। অধিনায়ক মোসাদ্দেক ২৯ করে ফিরলেও আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন মিঠুন। ১৩তম ওভারে ৩টি ছয়ে তুলে নেন ২৪ রান। এমন ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিপিএলে নিজের সর্বোচ্চ স্কোরটও তুলে নেন তিনি। তাতে সিলেট ৪ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১৬২ রান। ম্যাচসেরা ইমরুল কায়েস।
আর দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে জয়ের জন্য রংপুর রেঞ্জার্সের প্রয়োজন ছিলো ১৭৪ রান। রানটা নেহায়েত কম নয়। তবে ১৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একদমই যেনো একপেশে খেলা খেললো রংপুর। গুটিয়ে গেলো ৬৮ রানে।
কুমিল্লার করা ১৭৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খূব বেশি সুবিধার হয়নি রংপুরের। দলীয় ১৩ রানে ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদের সাজঘরে ফেরার মাধ্যমে পতন শুরু হয় রংপুর শিবিরে।

এরপর ৫৭ রান তুলতেই একে একে বিদায় নেন জহুরুল, ফজলে মাহমুদ, লুইস গ্রেগরি, মোহাম্মদ নবী সহ রংপুরের ৮ ব্যাটসম্যান।
বড় রকমের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ঠুকে ঠুকে রান করে যাচ্ছিলেন জুনায়েদ খান এবং মুস্তাফিজ। কিন্তু লাভ হয়নি তাতে। কমেছে শুধু পরাজয়ের ব্যবধান।
নিয়মিত উইকেট পতনে মোহাম্মদ নবীদের ইনিংস থামে ৬৮ রানে। ফলে ৩৬ বল আগেই ১০৫ রানের বড় জয় পায় কুমিল্লা ওয়ারিওর্স।
রংপুরের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭ রান আসে মোহাম্মদ নাইমের ব্যাট থেকে। অপরদিকে কুমিল্লার হয়ে আল আমিন নেন তিনটি উইকেট এবং সৌম্য, সাঞ্জামুল নেন দুটি করে উইকেট। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন দাসুন শানাঙ্কা। এর আগে দাসুন শানাঙ্কার ব্যাটিং তান্ডবে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তোলে কুমিল্লা।

শেয়ার