যশোরে আলোচিত প্রতিবন্ধী সুমি খুনে সৎ বাবার বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিহস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে প্রতিবন্ধী সুমি হত্যা মামলায় তার সৎ পিতাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত সৎ পিতা বাঘারপাড়া উপজেলার ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের মৃত কুবাদ আলীর ছেলে নাজমুল আহসান। আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শাহাজুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২৬ বছর আগে যশোর সদরের আগ্রাইল গ্রামের পূর্ব পাড়ার মোজাহার বিশ্বাসের মেয়ে রেশমা খাতুনের সাথে নাটোরের হারুন নামের এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয়। সেই সংসারে সুমি খাতুন নামে একটি মেয়ের জন্ম হয়। কিন্তু ৬ মাস বয়সে হারুন মেয়ে সুমিসহ তাকে ফেলে রেখে চল যায়।
পরবর্তীতে বাঘারপাড়া উপজেলার ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের নাজমুল আহসানের সাথে সুমির মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এই সংসারে সুমির মায়ের আরো ৫টি সন্তানের জন্ম হয়। জানা যায়, সৎ বাবা নামুল সুমিয়ে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। সেখানে নাজুমুল রিকসা চালাত ও সুমি ভিক্ষা করত। এর মধ্যে কিছু দিন আগে প্রতিবন্ধী সুমির ভিক্ষা করা ১৭ হাজার টাকা আবার ধার নেয় নাজমুল। আবার ৪ হাজার টাকা ফেরতও দেয়। কিন্তু বাদবাকী ১৩ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রী দুইজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
এরপর গত ঈদুল আযহায় নাজমুল ঢাকা থেকে মেয়ে সুমিকে নিয়ে আগ্রাইল গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে আসে। ঢাকা থেকে আসর পর গত ২৮ আগস্ট বিকেলে আগ্রাইল গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে বাঘারপাড়ার ভদ্রডাঙ্গায় নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে চলেও যায়। কিন্তু ওই দিন রাত ২টার দিকে ফিরে এসে নাজমুল সুমিকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে চলে যান। ওই রাতেই সুমিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে মারা যায়। পরদিন নিহত সুমির মা রেশমা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় নাজমুল আহসানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় নাজমুল আহসানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

শেয়ার