মেয়েকে ‘চোর’ সাব্যস্ত করে মা-বাবাকে পুলিশে সোপর্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মেয়ে তোহারুন্নেছারকে ‘চোর’ সাব্যস্ত করে বাড়ির মালিক তার মা-বাবাকে পুলিশে দিয়েছে। অভিযুক্তের মা হোসনেয়ারা তুলি ও বাবা তোরাপ হোসেন যশোর কোতোয়ালি থানা হাজতে বন্দি রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার তাদের অভয়নগরের বাড়ি থেকে ডেকে এনে পুলিশে দেন যশোর সদর উপজেলার রামনগরের মাসুদ আলম। মাসুদের দাবি বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়ি থেকে টাকা চুরি করে গৃহ পরিচারিকা তোহারুন্নেছা পালিয়ে গেছে। এজন্য তার মাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
থানা হাজাতে থাকা তোরাপ হোসেন বলেন, তার বাড়ি অভয়নগরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। সপ্তাহ খানেক আগে তার মেয়ে তোহারুন্নেছা সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মাসুদ আলমের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজে আসেন। গত বৃহস্পতিবার মাসুদ আলম পরিবার নিয়ে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যান। কিন্তু যাওয়ার সময় গৃহপরিচারিকা তোহারুন্নেছাকে ঘরের মধ্যে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখে যান। বিকেলে ফিরে এসে দেখেন তোহারুন্নেছা ঘরের মধ্যে নেই। পাশাপাশি ঘরে আলমারিতে রাখা এক লাখ ২০ হাজার টাকা নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে কোন সন্ধান না পেয়ে মাসুদ আলম কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগে মাসুদ আলম উল্লেখ করেছেন মা-বাবার পরামর্শেই তোহারুন্নেছা বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে বাড়িতে চুরির খবর জানার সাথে সাথেই তোহারুন্নেছার মা হোসনেয়ারা তুলি এবং বাবা তোরাপ হোসেনকে সংবাদ দেন মাসুদ আলম। তারা স্বামী-স্ত্রী দুইজন সেখানে আসার পরে মাসুদ আলম তাদের দুইজনকেই থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। মেয়ে ‘অপরাধ’ করলেও তার মা-বাবাকেই পুলিশের খাঁচায় বন্দি হতে হয়েছে।
এব্যাপারে থানার এক দারোগা বলেছেন গৃহ পরিচারিকা তোহারুন্নেছাকে না পেয়ে তার মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, গৃহপরিচারিকা তোহারুন্নেছাকে পাওয়া গেলে মূল বিষয়টি জানা যাবে। যদি ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকের সাথে অভিযুক্তদের আপস না হয় সে ক্ষেত্রে মামলা হতে পারে।

শেয়ার