যশোরে মাদক বিক্রি ও সেবনে বাধা দেয়ায় শ্রমিককে মারপিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মাদক বিক্রি ও সেবনে বাধা দেয়ায় যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রেজোয়ান নামে এক শ্রমিককে মারপিট ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে শহরের শংকরপুর বিএনপি নেতা নূর নবীর বাড়ির পিছনে এঘটনার পর আহত রেজোয়ানের পিতা আব্দুল হক টিপু বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ মামলার প্রধান দুই আসামিকে আটক করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। আটককৃতরা হলো, শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া ছোটনের মোড় এলাকার আব্দুল হালিম ওরফে ঠেলা মুন্সির ছেলে শাওন (২২) ও বাস টার্মিনাল এলাকার রুস্তুম খানের ছেলে রিপন (২২)।
এ মামলার পলাতক আসামিরা হলো, শংকরপুর ছোটনের মোড়ের কাজলের ছেলে বুলেট সাগর (২২), আমিনুর রহমানের ছেলে এনা (২৫), সেলিমের ছেলে রায়হান (২৪) মৃত শানুর ছেলে শাহিন (২৫)।
বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে রেজোয়ান হোসেন যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ রুটের কাউন্টারে চাকরি করেন। আসামিরা বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন করে। রেজোয়ান আসামিদের সেখানে মাদক বিক্রি ও সেবনে নিষেধ করায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায় রেজোয়ানকে মারপিটসহ খুন জখমের হুমকি দেয় আসামিরা। তারই জের ধরে গত ৪ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসামি শাওন এসে রেজোয়ানকে কথা আছে বলে জমাদ্দারপাড়া বিএনপি নেতা নূর নবীর বাড়ির পিছনে নিয়ে যায়। সেখানে অপর আসামিরা পূর্ব থেকে লোহার রডসহ বিভিন্ন ধরনের দেশিয় অস্ত্র নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। রেজোয়ানকে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সকল আসামি তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এসময় তার হাতে থাকা একটি স্বর্ণের আংটি নিয়ে নেয়। এরপর রেজোয়ানের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে চলে যায়। এরপরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এব্যাপারে ওইদিন রাতেই রেজোয়ানের পিতার দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামি শাওন ও রিপনকে আটক করেছে পুলিশ।

শেয়ার