বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাঙালি জাতির বহুল কাক্সিক্ষত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আজ বিজয়ের মাসের পঞ্চম দিন। আজ থেকে ৪৮ বছর আগে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি বীর সেনাদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন একটি দেশের, অর্জিত হয় মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয়। একাত্তরের ৫ ডিসেম্বর ছিল এক উন্মাদনার সময়। হত্যা ও ধ্বংসের বিভীষিকায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মুক্তিপাগল বাঙালিরা। চারদিকে বিজয়ের রণধ্বনি। সম্মুখযুদ্ধ শুরুর তৃতীয় দিন থেকেই বাংলার আকাশ শত্রুমুক্ত হতে শুরু করে। যৌথবাহিনীর কাছে বিপর্যস্ত হতে থাকা জেনারেল নিয়াজি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সীমান্ত অঞ্চল ছেড়ে শহরভিত্তিক স্ট্রং পয়েন্ট তৈরির নির্দেশ দেন। রক্তক্ষরা ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার আকাশ পুরোপুরি মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর দখলে চলে যায়। বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকবাহিনীর প্রায় অধিকাংশ বিমান। এদিনেই পাকবাহিনীর কনভয়ের ওপর ভারতীয় জঙ্গি বিমানগুলো আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর নব্বইটা গাড়ি ধ্বংস হয়। এছাড়াও পাকবাহিনীর সৈন্যবোঝাই কয়েকটা লঞ্চ এবং স্টিমার ধ্বংসের মাধ্যমে নড়বড়ে করে দেয়া হয় পাকবাহিনীর ভিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হতে ধার হিসাবে পাওয়া সাবমেরিন ছিল পাক নৌবহরের গর্বের বস্তু। বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের সফল আক্রমণে তা ধ্বংস হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দখলমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার দিকে আসতে থাকেন।
একাত্তরের এই দিনে নৌবাহিনীর যৌথ কমান্ড চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সকল নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জাহাজগুলোকে বন্দর ত্যাগের পরামর্শ দেয়। তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতেও তাদের অপারগতা প্রকাশ করে। বিশ্বের সব দেশ বুঝতে পারে বাংলাদেশের বন্দরগুলো দখলে রাখার ক্ষমতা আর পাকবাহিনীর নেই।

শেয়ার