সূচি দেখে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ কোচ, সতর্ক ভুটানকে নিয়ে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি আছে। আত্মবিশ্বাসও ভরপুর। তার পরও দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ফুটবলের মুকুট পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরুর আগে ভীষণ বিরক্ত জেমি ডে। নিজেদের প্রস্তুতি, লক্ষ্য নিয়ে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে যত কথা বললেন, তার চেয়েও বেশি ক্ষোভ উগরে দিলেন ঠাসা সূচি নিয়ে!
কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর একটায় ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে প্রথম এই ইভেন্টে সেরা হওয়া বাংলাদেশ ২০১০ সালে দ্বিতীয় ও শেষবার সোনা জিতেছিল। গতবার পেয়েছিল ব্রোঞ্জ।
ভারতের না খেলার বিষয়টি শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত হওয়ায় সূচিতে বদল এনেছে আয়োজকরা। নতুন সূচিতে বাংলাদেশকে ৫ দিনে খেলতে হবে ৪টি ম্যাচ! বাকিদেরও নামতে হবে এই কঠিন পরীক্ষায়। সংবাদ সম্মেলনে সূচি নিয়ে নেপাল ছাড়া সব দলের কোচই জানিয়েছেন ক্ষোভ। বাংলাদেশ কোচ ডে তো বলেই দিলেন, জীবনে এমন সূচি না দেখার কথা।
“এরকম সূচি আমি আগে কখনও দেখিনি। মনে হয়, ভবিষ্যতেও কখনও দেখব না। এত অল্প সময়ে এতগুলো ম্যাচ, ভয়ঙ্কর ব্যাপার। মানতেই পারছি না। আমি মনে করি, এটা ভুল। কিন্তু বাধ্য হয়ে এটাই মেনে নিতে হবে।”
“সূচি অন্য দলগুলোর জন্যও একই; অন্যরাও কোনো সুবিধা পাবে না। কিন্তু আমি যদি খেলোয়াড় হতাম, তাহলে এত অল্প সময়ে এত ম্যাচ খেলা পছন্দ করতাম না।”
“খেলোয়াড়দের ভালো-মন্দ আমাদের দেখতে হবে। ভুটান ম্যাচের পর আমরা দেখব পরের ম্যাচে কে খেলতে পারবে, কে পারবে না। এই সূচির কারণে প্রতিটি দলের খেলোয়াড় চোটে পড়বে।”
সূচি নিয়ে ক্ষোভের কথা বললেন বাংলোদেশ অধিনায়ক জামাল ভূইয়াও। তবে খেলতে হবে তো এসব মেনে নিয়েই। জামাল জানালেন, চ্যালেঞ্জ জয়ে নিজেদের সাধ্যমতো লড়বেন তারা।

“এখানে আসতে পেরে আমরা খুশি এবং টুর্নামেন্টে খেলার অপেক্ষায় আছি। আশা করি, এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে পারব। সূচিটা একটু কঠিন, কিন্তু আমাদের এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। দেখা যাক, সামনের কয়েকটা দিনে কি হয়।”
ঢাকায় গত নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে ভুটানের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে জেমি ডের দল জিতেছিল ৪-১ ও ২-০ ব্যবধানে। তবে এসএ গেমসের বাস্তবতা ভিন্ন। লড়াই এখানে মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে। কোচ তাই শুনিয়েছেন সতর্কবার্তা, এবার ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ হবে আরও কঠিন।
“গত মাসে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি আমাদের জন্য সহজ ছিল না। আমরা খুবই ভালো খেলেছিলাম। সম্ভবত ওই ম্যাচে মাঠের কন্ডিশন ভুটানের চেয়ে আমাদেরকে বেশি সুবিধা দিয়েছিল। ভুটান ভালো দল। আমাদের মতো তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় আছে। আগামীকাল কঠিন একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে; কেননা এখানে তাদের ভালো করার সুযোগ আছে।”
“যদি আমরা ভালো পারফর্ম করতে পারি, এই প্রতিযোগিতায় আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে। আমরা সব দলকে সমীহ করি, কিন্তু নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।”
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নেপালের উচ্চতা নিয়ে ভাবনা নেই ভুটানের। দলটির কোচ পেমা দর্জি বাংলাদেশকে শক্তিশালী মেনে নিয়ে বলেছেন, উচ্চতার সুযোগ কাজে লাগাতে চান তিনি। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূইয়া অবশ্য ওসব নিয়ে ভাবছেন না মোটেও।
“খেলোয়াড়রা এটার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। শুরুর দিনগুলো একটু অন্যরকম ছিল, কিন্তু আমরা এখন নেপালের কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই কন্ডিশনে খেলতে হলে আমাদের অবশ্যই মানিয়ে নিতে হবে।”

শেয়ার