বাগেরহাট পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ ১০ টাকা বেশিতে মিলছে পেট্রোল

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ জ¦ালানী তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে বাগেরহাটের সব ফিলিং স্টেশনগুলো জ¦ালানী তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। রোববার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ জ্বালানি ব্যবসায়ীরা এ কর্মবিরতি শুরু করেন। তবে স্থানীয়ভাবে খুচড়া প্রেট্রোল ও ডিজেল বিক্রেতাদের কাছে তেল পাওয়া যাচ্ছে। ধর্মঘটের খবরে তারা প্রতি লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধি করে তেল বিক্রি করছেন। বেশি দাম দিয়ে তেল কিনতে হলেও যানবাহন চালকদের ভীড় ছিল খুচরো দোকানে।
রবিবার সকালে শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় পাম্পের সামনে তেলের ড্রাম দিয়ে বেরিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে কোন যানবাহন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বেরিকেডের সামনে মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন অপেক্ষমান রয়েছে। পাম্পের নিজস্ব এলাকায় কোন লোকজন নেই। পাম্পের শ্রমিকরা ভবনের অভ্যন্তরে বসে কম্পিটারে নাটক দেখে অবসর সময় পার করছেন।
মোটরসাইকেল চালক রফিকুল বলেন, সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে পাম্পে আসি তেল নিতে। কিন্তু পাম্পে এসে দেখি তেল বিক্রি বন্ধ। খুব ঝামেলায় পড়েছি। কিভাবে অফিসে যাব এখন।
ট্রাক চালক মোয়াজ্জেম বলেন, মাল ভর্তি ট্রাক। পাম্পে এসে দেখি তেল বিক্রি বন্ধ। কিভাবে সময়মত মাল পৌছাব এই নিয়ে খুব টেনশনে আছি।
পাম্প শ্রমিক আছাদ বলেন, ১লা ডিসেম্বর ভোর থেকে আমরা এই কর্মবিরতি শুরু করেছি। ১৫ দফা দাবি না মানলে মালিকরা বাঁচতে পারবে না। আর মালিকরা না বাঁচলে আমাদের কিভাবে তারা বেতন দিয়ে রাখবেন। তাই সরকারের কাছে দাবি যাতে দ্রুত সম্ভব আমাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হোক।
বাগেরহাট খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক পক্ষের একজন কাজী মোঃ বাশার বলেন, ভোর থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছি। যদি সরকার আমাদের দাবি না মেনে নেয় তাহলে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য এই অবরোধ চলবে। প্রয়োজনে এই পাম্প বন্ধ থাকবে। পাম্পের জায়গায় মুদি দোকান করব। তারপরও আমরা আর তেল বিক্রি করব না।
১৫ দফা দাবিগুলো হচ্ছে, জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে সাত শতাংশ প্রদান, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ পেট্রোল পাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারি অন্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

শেয়ার