শরণখোলায় ব্যবসায়ীকে শায়েস্তা করতে ধর্ষণের মামলা!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় দোকান ঘর ক্রয়ে ব্যর্থ ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে পরাজিত হয়ে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে এক ব্যবসায়ীকে ষডযন্ত্রমুলক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্ষিতিশ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক ক্ষিতিশ চন্দ্র হালদারের (৬১) বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২৪ ,নভেম্বর (সোমবার) উপজেলার সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা খলিল হাওলাদার শরণখোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই মামলাটি রজু করেন । এ ঘটনায় স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ওইদিন দুপুর অনুমান সোয়া ১২টায় খলিল তার শিশু কন্যাকে (১০) তাফালবাড়ী বাজারের ওই মিষ্টির দোকানে বসিয়ে রেখে তিনি পার্শ্ববতী একটি দোকানে গেলে ক্ষিতিশ হালদার তার মেয়েকে যৌন নিপিড়ন করেন।
তবে ক্ষিতিশের স্ত্রী অঞ্জলি রানী (৪৫) সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিকস রোগে আক্রান্ত। তার জন্য আমরা দু,জনে মিলে ব্যবসা করি এবং সব সময় আমি তার সাথে থাকি। ওই দিনও আমি তার সাথে দোকানে ছিলাম। মেয়েটি তার ছোট বোনকে সাথে নিয়ে দোকানে বসে দধি খেয়ে তার বাবার সাথে চলে যায়। সে সময় কারো নিকট কোন অভিযোগ করেননি। তবে চলে যাওয়ার প্রায় দু’ঘন্টা পর বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মেয়েটির নানা আঃ সাত্তার মৃধা (৬২) , মামা আঃ রাজ্জাক মৃধা (৪৩), নানী ফতেমা বেগম (৫০), বাবা খলিল হাওলাদার (৪৫) ও তার -মা -তাছলিমা বেগম (৩৫) সহ ৭/৮ জন ব্যক্তি এক জোট হয়ে দোকানে প্রবেশ করে এবং কোন কিছু না বলেই আমার অসুস্থ স্বামীকে জুতা, লাঠি ও রুটি তৈরির ব্যালন দিয়ে বেধড়ক ভাবে মারতে থাকেন। ওই সময় আমি বাঁচাও বলে চিৎকার দিলে কিছু ব্যবসায়ী ছুটে এসে তাকে হামলা কারীদের কবল থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় হামলাকারীরা দোকানের আসবাপত্র তছনছ করে ফেলে। পরে শুনি রাজ্জাকের বোন জামাই (মেয়েটির বাবা) আমার স্বামীর নামে থানায় একটি মামলা করেছেন এবং পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। বাজারে থাকা আমাদের একটি দোকান ঘর বিক্রি নিয়ে মেয়ের মামা রাজ্জাকের আমাদের শত্রুতা থাকায় শিশু মেয়েটিকে ব্যবহার করে এই নাটক সাজিয়েছেন রাজ্জাক ও তার পরিবার। এ ব্যাপারে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল আলম রিপন ও সাধারণ সম্পাদক সানু জোমাদ্দার এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে বাজার কমিটির নির্বাচনে ক্ষিতিশ তার দাকান ঘরের মালিক রিপনের পক্ষে থাকায় ও তাকে ভোট দেয়ার কারণে রাজ্জাক তার পরিবারে সহায়তায় ব্যবসায়ী ক্ষিতিশকে শায়েস্তা করতে তার ৮ বছর বয়সী শিশু ভাগ্নীকে হাতিয়ার বানিয়েছে। বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী বলেন, ক্ষিতিশ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে এই বাজারে ব্যবসা করছেন। এ পর্যন্ত কোন মানুষের সাথে তার ঝগড়া হয়নি। শত্রুতার জেরে মামলা করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবুল দাস বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ব্যবসায়ী ক্ষিতিশ গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শেয়ার