যশোরের অনুমোদনহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অনুমোদন নেই এমন সব ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ। বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদনহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আলোচনা হয়েছে। গতকাল রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন অনুষ্ঠিত মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় অননুমোদিত ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহবান জানানো হয়।
সমন্বয় সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, অনলাইনে ক্লিনিক পরিচালনার আবেদন করার সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেবলমাত্র নিবন্ধন নম্বর সংগ্রহ করেই বেশ কিছু ক্লিনিক পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসা সেবার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, চিকিৎসক ও লোকবল ছাড়াই এসব ক্লিনিকগুলো চলছে।
যশোর সদরসহ উপজেলা পর্যায়ে এধরণের কিছু ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সংকট তৈরি করে চলছে। সভায় এধরণের ক্লিনিকের পরিচালকদের পরিপূর্ণ অনুমোদন নিয়ে ক্লিনিক পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।
রোববার যশোর জেলার সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ের এক ক্লিনিকে একজন গর্ভবতীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে এবং ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
২০১৭ সাল পর্যন্ত যাবতীয় রাজস্ব পরিশোধ করে যেসব ক্লিনিকের যথাযথ অনুমোদন হালনাগাদ আছে কেবলমাত্র তারা ক্লিনিক পরিচালনা করার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে বলে তিনি জানান। এসময় তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক বন্ধ করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের তিনি সুপারিশ করেন। এদিকে এই বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ক্লিনিকের অনুমোদনপত্র পর্যবেক্ষণসহ মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
এছাড়া সভায় সিভিল সার্জন জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় কেশবপুরে ২ জন এবং অভয়নগরে ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এযাবৎ জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে তবে বিশেষ সাবধানতার জন্য তিনি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রাখার বিষয়ে জোর দেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী ভৈরব নদ খননের অগ্রগতির বিষয়ে সভায় অবহিত করেন। তিনি জানান, আগামী বছরের জুনের মধ্যে নদী খননের কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, ভৈরব খননে গরীবশাহ্ মাজার থেকে কাঠের পুল পর্যন্ত ঠিকাদার সংকটে খনন এবং পাড় সংস্কারের কাজে কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও এখন সেই সংকট কেটে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কাজের আগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষে সভায় অবহিত করা হয়, মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ২১০০ কৃষক ও কিষাণীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে এই জেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে সবজি, ১ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে পাট, ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে তিল, ১হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে মুগডাল, ৫৯০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম খালেক সভায় জানান, স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফরম পূরণের অতিরিক্ত অর্থ আদায় যাতে না হয় সে বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস সভায় জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক চর্চার বিষয়ে গুত্বারোপ করা হয়েছে।
মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএএম রফিকুননবী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার, মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার