বেনাপোলে ১৯ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি

বেনাপোল প্রতিনিধি॥ বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি লকার থেকে ১৯ কেজির বেশি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে, রবিবার (১০ নভেম্বর) রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। কাস্টমস হাউজের লকার থেকে ১৯ কেজি ৩৮০ গ্রাম স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যায় একটি চক্র। লকারে অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের মধ্যে মোট ২৯ কেজি স্বর্ণ ছিল। চুরির ঘটনার সময় সিসি-টিভির ক্যামেরা খুলে রাখা হয়েছিল।
আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, যে চক্র এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছিল। হয়তো কাস্টমস কমিশনারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই কাজ করা হয়ে থাকতে পারে।
বেনাপোল কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার শামিম হোসেন জানান, চুরির ঘটনায় ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন ও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে ওই তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার বেনাপোল শুল্ক ভবনের ‘গোপনীয় লকার’ থেকে ১৯ কেজি ৩৮৫ গ্রাম স্বর্ণ চুরির কথা জানায় শুল্ক ভবন কর্তৃপক্ষ। এই চুরিতে জড়িত সন্দেহে সোমবারই পাঁচ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানান বেনাপোল শুল্ক ভবনের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী।
তারা হলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাবুল সরকার, কাস্টমস সিপাহি পারভেজ আলম, পিয়ন আজিবর রহমান, মহব্বত আলি ও সুরত আলী। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় নিয়েছে সিআইডি।
ওই লকারে শুল্ক বিভাগ, শুল্ক গোয়েন্দা, বিজিবি ও পুলিশের উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখা স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা, কষ্টিপাথরসহ মূল্যবান দলিলপত্র ছিল।
সোমবার সন্ধ্যায় ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব ও বেনাপোল পোর্ট থানার কর্মকর্তারা ওই কক্ষে (লকার রুম) যান। তারা সেখানে হাত-পায়ের ছাপ সংগ্রহ করেন।
যশোর ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক সৈয়দ মামুন হোসেন, র‌্যাব কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, আতিকুর রহমান, বেনাপোল শুল্কভবনের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, এআরও জিএম আশরাফ ও বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি মামুন খান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পুরাতন শুল্ক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ‘গোপনীয় লকার’। সেখানে সিসি ক্যামেরার তার কেটে এই চুরি হয় বলে জানান শুল্ক কর্মকর্তারা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “কক্ষের সিসি ক্যামেরার তারের সংযোগ বিছিন্ন করে সরকারি কোষাগারের লকার খুলে চুরি করা হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধান করে ১৯ কেজি ৩৮৫ গ্রাম স্বর্ণ কম পাওয়া গেছে। অন্যান্য বিষয় তদন্ত শেষে জানানো হবে।”

শেয়ার