বুলবুলির পাশে মমতাময়ী ইউএনও

আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা (খুলনা) ॥ তখনও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি এলাকায়। বৈরী আবহাওয়া ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে মাইকে প্রচার করা হচ্ছে ঝড়ের পূর্বাভাস। ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত। যে কোন সময় ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” আঘাত হানতে পারে। সবাই আশ্রয় কেন্দ্রে যান। নিরাপদ আশ্রয় নিন। এ ধরণের মহা বিপদ সংকেত শোনার পর প্রতিটি মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করবে কিংবা আতঙ্কিত হবে এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে রাবেয়া একজন নারী। শুধু নারী নয়, তিনি ছিলেন সন্তানসম্ভবা। বসতবাড়িটিও ছিল শিব্সা নদীর কিনারে। বসতঘর সেতো ফুটো টিনের চালের ছাউনি। তাই ঝড়ের আগে ভাগেই শনিবার দুপুর ২টার দিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আশ্রয় নেয় সোলাদানা সাইক্লোন শেল্টারে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত যত ভারি হয় রাবেয়া ততো উদ্বিগ্ন হতে থাকে। ঝড় শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে সময় অনুযায়ী তখন রাত ১টা বাজে। চারিদিকে তখন ঘোর অন্ধকার, বৃষ্টি হচ্ছে মুষলধারে। ঠিক এমনই সময় প্রসব বেদনা শুরু হয় রাবেয়ার। একদিকে রাবেয়ার প্রসব যন্ত্রণা, অন্যদিকে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের মধ্যে পরিবারের লোকজন ছুটে যায় পাশ্ববর্তী গ্রাম্য ডাক্তার গৌর’কে আনতে। ঝড়ের ভয়ে ডাক্তার আসতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হককে দিয়ে ফোন করানো হয় ডাক্তারকে। শেষমেষ ভোর রাতের দিকে ডাক্তার চলে আসে সাইক্লোন শেল্টারে। অনেক চেষ্টার পর সকাল ৭টার দিকে যখন ঘূর্ণিঝড় প্রবল গতিবেগ নিয়ে আঘাত হেনেছে এমন সময় চিকিৎসক ইপিসিওটমি এর মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারী করেন রাবেয়ার। এ সময় রাবেয়ার একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হয়। বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন তার নাম দেয় “বুলবুলি”। রাবেয়ার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় আশ্রয় নেওয়া অন্যান্য মানুষ ঝড় শেষে বাড়ি ঘরে ফিরলেও রাবেয়া থেকে যান আশ্রয় কেন্দ্রে। পরিবারের লোকজন তাকে সোমবার সকালে বাড়ি নিয়ে আসে। এ খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে ছুটে যান খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা গ্রামস্থ শিব্সা নদীর তীরে অবস্থিত রাবেয়ার বাড়িতে। ফুটফুটে বুলবুলিকে দেখেই তার মায়ের কোল থেকে নিজের কোলে নেন ইউএনও জুলিয়া সুকায়না। অনেকটা সময় নিজের কোলে রেখে বুলবুলিকে মমতা মাখা আদর ও ¯েœহ দিয়ে ভরিয়ে দেন ইউএনও। এ সময় ইউএনও বুলবুলির বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন নানা রকম উপহার সামগ্রী। তাৎক্ষণিকভাবে ফুটো টিনের চালের ঘর মেরামতের যাবতীয় দায় দায়িত্ব নেন জুলিয়া সুকায়না। ফুটো টিনের চালের ঘরে ইউএনও’র মত একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুুত হয়ে পড়েন বুলবুলির পরিবার।

শেয়ার