কেশবপুরে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা কেন্দ্র রাখার দাবি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ কেশবপুরে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা কেন্দ্র তুলে দেয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্র বহাল রাখার দাবি করেছেন উপজেলার বিভিন্ন মহলের মানুষ।
জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার মোটরসাইকেল মালিকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে যশোর বিআরটিএ অফিসে যেতে হয়। সেখানে দালালের মাধ্যমেই বেশির ভাগ মানুষের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হয়। এতে এদিকে যেমন সময় বেশী লাগে অপরদিকে দালাল ও অফিসের অসাধু লোকের দ্বারা হয়রানির শিকার হতে হয়। যশোরে একজন ড্রাইভারকে লাইসেন্স নিতে দালালের খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়।
পৃথিবী এখন মানুষের হাতের নাগালেই। সময়ের সাথে মানুষের ব্যস্ততাও বেড়েছে। একসময় কেশবপুর উপজেলা ব্যাপী হাতে গোনা কয়েকটি মোটরসাইকেল ছিল। এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে একের অধিক মোটরসাইকেল। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দুর যশোর গিয়ে একজনকে ড্রাইভিং লাইসেন্স কোর্স করা খুবই কঠিন। নানারকম ঝামেলার কারণে অধিকাংশ মোটরসাইকেরের মালিক ড্রাইভিং লাইসেন্স করেন না। আর ড্রাইভিং দক্ষতা না থাকায় কেশবপুরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় মানুষ আহত এবং নিহত হন। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কেশবপুরবাসির সময়ের দাবি চলতি বছর কেশবপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভ্যেনু বা কেন্দ্র চালু করা হোক। আর এই সুযোগ করে দিয়েছিলেন কেশবপুরের সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেক। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান।
কেশবপুরে প্রথম ধাপে যারা মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন কারীদের পরীক্ষা গত বুধবার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ডধারী ১৪৮ জন পরীক্ষার্থী ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। কেশবপুরে যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের শুধু সরকারি ফি দিতে হয়েছে বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসন কর্তৃক কেশবপুর থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা কেন্দ্র তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় উপজেলাব্যাপী মোটরসাইকেল মালিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানান, অনেক যুদ্ধ সংগ্রাম করে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য পরীক্ষার ভ্যেনু কেশবপুরে নিয়ে এসেছিলাম এমপি ইসমাত আরা সাদেক মহোদয়ের সহযোগিতায়। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, কেশবপুর থেকে আবারও কেন্দ্র যশোরে চলে যাবে। জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে কেশবপুরবাসিকে হতবাক করেছে। তারা অবিলম্বে কেশবপুরে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স কেন্দ্র রাখার জন্য বিআরটিএর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার