বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে নিহত ২

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট ॥ বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ঘর-বাড়ি। ভেসে গেছে ৭ হাজার মাছের ঘের। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া ভেঙ্গে পড়েছে লক্ষাধিক গাছ। এ অবস্থায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। রবিবার (১০ নভেম্বর) ভোর রাত থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বাগেরহাটে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বাগেরহাটে দুইজন নিহত হয়েছেন। জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার ৪৪ হাজার ৫‘শ ৬৩টি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে ৩৫ হাজার ৭৭৫টি আংশিক এবং ৮ হাজার ৭৮৮টি ঘর সম্পুর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৩৫ হাজার ৫‘শ ২৯ হেক্টর ফসলি জমি এবং ৭ হাজার ২৩৪টি মৎস্য ঘের। ভেঙ্গে পড়েছে অর্ধ-শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন। শনিবার মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ বিহীণ রয়েছে বাগেরহাট জেলা শহরের বাইরের সকল এলাকা। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে নিহত হয়েছেন, ফকিরহাট উপজেলার মাসুম শেখের স্ত্রী হিরা বেগম এবং রামপাল উপজেলার বাবুল শেখের মেয়ে সামিয়া খাতুন। বুলবুল‘র আঘাতে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকার বিপুল পরিমান গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন।
বাগেরহাট পৌর এলাকার সোনাতলা বাসিন্দা মোল্লা মাসুদুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবের আমার বসত ঘরের টিনের উপর একটি গাছ উপড়ে পড়েছে। যাতে আমার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাটু সমান পানিতে বাড়ি-ঘর তলীয় গেছে। এ অবস্থায় রান্না-বান্না পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে।
পৌরসভার খারদ্বার এলাকার তাসলিমা বেগম বলেন, ঝড়ের তান্ডবে আমাদের বাড়ির ফলজ-বনজসহ ৫টি গাছ ভেঙ্গে পরেছে। এর মধ্যে আমাদের ভাড়াটিয়াদের দুটি ঘরের ওপর গাছ পরে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাঁটু সমান পানিতে আমরা এখন বন্দি অবস্থায় আছি।
কচুয়া উপজেলার সোহান শেখ বলেন, আমাদের বাড়িতে ফলজ-বনজসহ প্রায় ২০টি বিভিন্ন প্রকার গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে আমার প্রায় ৫ লক্ষধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাট কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীকপ কুমার রায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে জেলায় ৩৫ হাজার ৫শ ২৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৮শ ৩ হেক্টর রোপা আমন, ২ হাজার ৩শ ৯৫ হেক্টর সবজি, ৫শ ৪০ হেক্টর পান, ৫শ ৭০ হেক্টর খেসারী, ৭০ হেক্টর কলা, ৯৫ হেক্টর আঁখ, ৩৬ হেক্টর মরিচ এবং ২০ হেক্টর সরিষার ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালেদ আনক জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৭ হাজার ২শ ৩৪টি মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছ চাষীদের প্রায় ২ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎতের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে পল্লী বিদ্যুৎতের প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি বৈদ্যুৎতিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ লাইন ছিড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ বলেন, বাগেরহাটে ৪৪ হাজার ৫‘শ ৬৩টি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নিহত দুই পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সব সময় দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে রয়েছে।

শেয়ার