দিবা-রাত্রির টেস্ট নিয়ে শঙ্কার চোরা স্রোত

সমাজের কথা ডেস্ক॥ গোলাপী বল কেমন জানা নেই অধিনায়ক মুমিনুল হকের। ইমরুল কায়েস কিছুটা অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন মিরপুরে। স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড় কখনও গোলাপী বলে ম্যাচ না খেলায় শঙ্কার চোরা স্রোত বাংলাদেশ দলে। রাসেল ডমিঙ্গো মনে করেন, একটা প্রস্তুতি ম্যাচ পেলে ক্রিকেটাররা কিছুটা ধারণা পেতেন সামনে ঠিক কী অপেক্ষা করছে।
ভারতের বিপক্ষে ইন্দোর টেস্ট দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হবে বাংলাদেশের। এই ম্যাচকে খেলোয়াড়রা কম গুরুত্ব দিচ্ছেন এমন না। তবে লাল বলের ক্রিকেটে নতুন করে অভ্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। উপমহাদেশে খেলা বলে বড় পরিবর্তনের কোনো দরকারও দেখছেন না তারা।
কিন্তু কলকাতায় প্রথমবারের মতো দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারতেরও প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট হবে এটি। দিলিপ ট্রফির তিনটি আসরে তারা গোলাপী বল দিয়ে খেলায় কিছুটা হলেও ধারণা আছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের।
প্রথম টেস্টের আগে ক্রিকেটারদের মনে ঘুরে ফিরে আসছে দ্বিতীয় টেস্টের কথা। ভারত সফরের শুরুতেই শেষ ম্যাচটি নিয়ে বেশি বলতে হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধান কোচকে। তার কণ্ঠে ঝরেছিল কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকার আক্ষেপ।
“খুব ভালো হতো গোলাপী বলে যদি দুই দিনের একটা ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলা যেত। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গে আমার সময়ে অ্যাডিলেইড টেস্টের আগে গোলাপী বলে একটা দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিলাম আমরা। প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের মধ্যে মাত্র তিন দিনের ব্যবধান বলে কিছু খেলোয়াড়ের মধ্যে বেশ উদ্বেগ আছে। ট্রাভেলের পর অনুশীলনের জন্য সময় মোটে দুদিন। তৈরি হওয়ার তেমন সময় নেই।”
ভারতও কোনো দিবা-রাত্রির টেস্ট না খেলায় একটু সুবিধা দেখছেন ডমিঙ্গো।
“আমাদের মতো এখানে ভারতের জন্যও একই ব্যাপার। তবে এই চ্যালেঞ্জকে সহজ করে নিতে হবে।”
গোলাপী বলের ক্রিকেট কিছুটা দেখেছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ। সেই দেখা থেকে এরই মধ্যে চিহ্নিত করেছেন দিবা-রাত্রির টেস্টে খেলোয়াড়দের জন্য মূল চ্যালেঞ্জগুলো।

“আমাদের একেবারে নির্দিষ্ট করে সূর্যাস্ত এবং আধার নামার মাঝের সময়টায় ব্যাটিং অনুশীলন করতে হবে। এই সময়টাতে সংগ্রাম করতে হয় বেশি। রিস্ট স্পিনারদের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের বেশ লড়তে হয়। কারণ, সিম দেখতে সমস্যা হয়। লাল বলের সাদা সিম যেমন দৃশ্যমান থাকে এই বলে তেমনটা হয় না।”
“বল নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলেন, এই বল সহজে মুভ করে এবং নরম হয়। সম্ভবত একটু দ্রুত রঙ হারায়। হয়তো মাত্র ১০ বা ১২ ওভার পর্যন্ত এই বলের সুইং এবং মুভমেন্ট থাকে। গোলাপী বলের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি বলেই অনেক খেলোয়াড় এর মুখোমুখি হতে তেমন আগ্রহ পায় না।”
ভারতের পেস বোলিং ইউনিট এখন দারুণ শক্তিশালী। গতিময় কয়েকজন পেসার আছেন। দুই দিকে সুইং করাতে পারেন এমন বোলারেরও কমতি নেই। গোলাপী বলের ক্রিকেটে তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে মুমিনুল-ইমরুলদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক।
ভারতের ব্যাটসম্যানরা আছেন দারুণ ছন্দে। আইসিসি টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে আছে তাদের চার জন। বোলারদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন লড়াই।
সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী বিসিসিআইয়ের প্রধান হওয়ার পর মূলত তার আগ্রহেই কলকাতা টেস্ট দিবা-রাত্রির হয়ে যায়। ছেলেদের একেবারে নতুন একটি পরীক্ষায় ফেলার আগে তাদের প্রস্তুতি নিয়ে কতটা ভেবেছিল বিসিবি? নাজমুল হাসান জানান, ভারতে সিরিজ খেলা নিশ্চিত করার দিকেই ছিল তাদের বেশি নজর।
“ভারতের বিপক্ষে সিরিজ এর আগে পাইনি তো, অনেক চেষ্টা করেছি। আমার আগে যারা ছিলেন তারাও চেষ্টা করেছেন – আমরা তো গোলাপী বলে খেলিই নাই। ভারতও খেলে নাই। গোলাপী বল আমাদের জন্য কঠিন। দেখা যাক কী হয়।”

শেয়ার