দলকে জেতাতে না পারার আক্ষেপ পোড়াচ্ছে নাঈমকে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আর দুই ওভার ক্রিজে থাকলে সেঞ্চুরি পেয়ে যেতেন-মন্তব্যটা যেন আগের দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গেল মোহাম্মদ নাঈম শেখকে। কী দুর্দান্ত এক ইনিংসই না খেলেছেন তরুণ এই ওপেনার। তবে পারেননি দলকে জেতাতে। সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়ে যাওয়া নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। দলকে জেতাতে না পারাটা পোড়াচ্ছে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে।

নাগপুরে রোববার ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নাঈম। ষোড়শ ওভারে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার আগে ৪৮ বলে খেলেন ৮১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস।

ইনিংসের শুরুতে ছিলেন একটু সাবধানী। প্রথম ১৫ বলে করেন ৮ রান। যুজবেন্দ্র চেহেলকে টানা তিন বাউন্ডারি মেরে গা ঝাড়া দেন। এরপর আর থামাথামি ছিল না। শেষ ৩৩ বলে তোলেন ৭৩ রান। জানান, বল অনুযায়ী খেলেই দ্রুত রান তুলতে পেরেছেন।

“আক্রমণাত্মক না, যেভাবে লক্ষ্য ছিল সেভাবে ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেছি। ওভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কিছু নাই। যেভাবে খেলা দরকার সেভাবে চেষ্টা করছি।”

বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার আগে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাঈম। জানান, সেঞ্চুরি না, দলের জয়ের কথাই কেবল ভাবছিলেন তিনি।

“আমার মনে হয়, (যে বলে আমি আউট হয়েছি সেটা) পুরো ইনিংসে ওদের সেরা বল ছিল। আর সেঞ্চুরির জন্য খেলিনি, দলকে জেতানোর জন্য খেলছিলাম। এই জায়গায় সফল হতে পারিনি, এর জন্য খারাপ লাগছে।”

“আক্ষেপ তো অনেক বেশি। সিরিজ জিততে পারলে অনেক ভালো লাগতো। জিততে পারিনি বলে একটু খারাপ লাগছে। আমাদের আরেকটা জুটি হলে হয়তো আমরা জিততে পারতাম।”

১২ রানে লিটন দাস ও সৌম্য সরকারকে হারানো বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরে নাঈম ও মোহাম্মদ মিঠুনের জুটিতে। নাঈম জানান, তৃতীয় উইকেট জুটিতেই ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্য ছিল তাদের।

“আমাদের দুজনের কথা হচ্ছিল, শেষ করলে আমাদের দুজনকেই শেষ করতে হবে। পেছনের দিকে যেন আমরা না যাই, আমরাই যেন শেষ করে আসতে পারি।”

সেটা পারেননি তারা। ৯৮ রানের জুটি ভাঙতেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। ৩৪ রানে সফরকারীরা হারায় শেষ ৮ উইকেট। এই হার মানতে কষ্ট হচ্ছে ২০ বছর বয়সী নাঈমের। সতীর্থদের দুষছেন না এই তরুণ। ৩০ রানের হারের জন্য দায় দিচ্ছেন নিজেকেই।
“আর দুই-তিন ওভার থাকতে পারলে হয়তো দলকে জেতাতে পারতাম। হরভজন সিংও এই কথাই বলছিলেন। সতীর্থরা অনেক কিছুই বলেছে। ভারতেরও কয়েকজন খেলোয়াড় অভিনন্দন জানিয়েছে।”
অভিষেক সিরিজটা বেশ ভালো কেটেছে নাঈমের। ১৪৩ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্মৃতি ভারতেই ফেলে মন দিতে চান নতুন অভিযানে। ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে নিজেকে আরও ঝালিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য তার।

“অভিষেক বলতে প্রথম ম্যাচেই যখন জিতেছি ভালো লেগেছে। জেতার কারণে ভালো লেগেছে। বেশি রান, সর্বোচ্চ রান এসব আমি চিন্তাই করি না। ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ খেলার চেষ্টা করি, যা হয় ম্যাচ শেষে দেখা যাবে। ৃইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ আছে সামনে, ওটা নিয়েই ভাবছি আপাতত।”

১৬১ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান হৃদয় ও শামীম। সাদুনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শামীম ফেরার সময় দল ছিল জয় থেকে ৭ রান দূরে।

সিরিজের পরের তিন ম্যাচ হবে ১৪, ১৭ ও ১৯ নভেম্বর, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

শেয়ার