ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র আঘাতে সাতক্ষীরার উপকূল এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালীনি, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও কাশিমাড়িসহ আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা এলাকার অধিকাংশ কাঁচা ঘর নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে টিন-এলবেস্টার, পানিতে একাকার হয়ে গেছে মৎস্য ঘের, ধানের ক্ষেত। রাস্তায় গাছ পড়ে থাকায় উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ঝড়ের সময় শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের আবুল কালাম (৬০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ভেটখালী ইউনিয়নের তারাণীপুরে দেয়াল চাপা পড়ে ভ্যানচালক পলাশ ও তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এ খবর সরকারি কোন সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ‘ভারতে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল হয়ে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল রোববার ভোর ৫টা থেকে ৮১ কিলোমিটার বেগে সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, এখনও পর্যন্ত জেলায় সর্বশেষ খবর অনুযায়ি ২৫ হাজার হেক্টর আমন ধান, ১২’শ হেক্টর সবজি, ৫০০ হেক্টর সরিষা, ২০০ হেক্টর কুল ও ১২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৪ হাজার ঘর ভেঙ্গে গেছে। মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। মানুষ এখনও সাইক্লোন শেল্টারে আছে।’
বুড়িগোয়ালীনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে তার ইউনিয়ন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বাতাসের তীব্রতা এতো ছিলে যে এখানকার অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। কাচা ঘর সব নষ্ট হয়ে গেছে, কাচা ঘরের টিন ও এ্যালবেস্টার উড়ে গেছে। চিৎড়ি ঘের ও ধানের জমি পানিতে একাকার হয়ে গেছে। নদীতে পানি বাড়ছে আমার এলাকার কিছু বেঁড়িবাধ ঝুঁকিপূর্ণ আছে, সেগুলো সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে মেরামত করার চেষ্টা করছি।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল রোববার ভোরে সাতক্ষীরা উপকূলের আঘাত হানে। এতে উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ কাঁচা ঘর নষ্ট হয়েছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মাছের ঘের ও ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গাছপালা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলির আঘাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ অপসারণ করেছেন।

শেয়ার