আমনের ক্ষেতে ‘বুলবুল’র পানি

জাহিদ হাসান
আলতাফ হোসেন চলতি আমন মৌসুমে দেড় বিঘা ধানের আবাদ করেছিলেন। এক সপ্তাহ আগেও তার জমিতে কার্তিকের হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছিলো ধানের সোনালী শীষ। সেই সঙ্গে দুলছিলো তার রঙিন স্বপ্ন। স্বপ্নের সেই সোনালী ধান এখন থৈ থৈ পানিতে ভাসছে। আর আলতাফের মনে উঁকি দিচ্ছে নানা আশঙ্কা। দুই দিনের মাঝারি বর্ষণে এখন তার সারা বছরের খোরাকিই পড়েছে অশ্চিয়তার মুখে। শুধু মণিরামপুরের উপজেলার সরসকাটি এলাকার আলতাপ হোসেন নয়, তার মতো এ জেলার অনেক কৃষকের মাঠের পাকা ধান পড়ে আছে পানির নিচে। গতকাল যশোর জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে এ দৃষ্ট দেখা গেছে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত না হানলেও তার প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ক্ষেত। অনেক কৃষক ধান কেটে ক্ষেতে রেখে দেয়ায় তা গেছে পানির নিচে। আর ঝড়ো হাওয়ায় অনেক ক্ষেত শুয়ে পড়ায় তাও ভাসছে পানিতে।
যশোর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরে গত ৯ নভেম্বর শনিবার ৩২ মিলিমিটার এবং ১০ নভেম্বর ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলার ৮ উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৫ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার এক লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ধান এখন পাকতে শুরু করেছে। কিছু কিছু ক্ষেতের ধান কাটাও শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় গড়ে ২৫ শতাংশ ক্ষেতের ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু শেষ সময়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের মাঝারি বাতাস ও বৃষ্টিতে যশোর জেলার প্রায় ১ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত পানি অপসারণ না হলে এ ক্ষতির পরিমান বাড়তে পারে।
যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া এলাকার কৃষক গফুর গাজী জানান, পরের জমি বর্গা নিয়ে এবার দেড় বিঘা আমন আবাদ করেছি। ধান ভালো হয়েছিল। ঘুর্ণিঝড়ে বুলবুলের প্রভাবের আগের দিন ১ বিঘা ধান কেটেছিলাম। সেগুলো পানিতে ভাসছে। কাটা ধান আর বাড়ি আনা সম্ভব হয়নি। ধানগাছ পচে যাচ্ছে। অনেক ধানে অঙ্কুর গজিয়েছে। ধান নিয়ে খুবই বিপদে আছি।
পুলেরহাট এলাকার কৃষক মাজিদ, খালেকসহ অনেকেই বলেন, ৮ নভেম্বর শুক্রবার দুপুর থেকে দফায় বৃষ্টির সঙ্গে মাঝারি বাতাস হয়। এতে ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় কেটে রাখা ধান পানির ওপর ভাসছে। পানিতে তলিয়ে থাকা কাটা ধানগাছ থেকে ধান ঝরে পড়ছে। পানিতে তলিয়ে থাকায় ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। (গো-খাদ্য) খড়বিচালির আশা তারা ছেড়েই দিয়েছেন। গতকাল সোমবার রোদ উঠায় শুকানোর জন্য চেষ্টা করছিলেন তারা।
এ বিষয়ে যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। শেষ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় কিছু ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। যে সকল ধান পানিতে ভাসছে সেই জমিগুলোতে দ্রুত পানি সরানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করে তারা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।