শরণখোলায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আতংক

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ধেয়ে আসার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ‘সিডর’ বিধ্বস্ত বাগেরহাটের শরণখোলাবাসী। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের মতো একইভাবে এই ঘূর্ণিঝড় তান্ডব চালাবে-এমন গুজবে মানুষ বেশি আতঙ্কিত। নদতীরবর্তী বেড়বিাঁধের বাইরে এবং বাঁধের কাছাকাছি বসবাসকারীরা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্ততি নিতে শুরু করেছে। অপরদিকে, ঘুর্নিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) এক জরুরী আদেশে উপকুলীয় জেলা গুলোর ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিলেও শরণখোলার (পিআইও) এর কার্যালয়টি ছিল ৮ নভেম্বর (শুক্রবার) বিকেল পর্যন্ত তালাবদ্ধ।
এদিকে (বৃহস্পতিবার) গভীর রাত থেকে দমকা বাতাস আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। শরণখোলাসহ উপকূল জুড়ে সিডরের পূর্বমুহুর্তের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুক্রবার সকাল থেকে সিপিপির সেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করে সতর্কতামুলক প্রচারণায় নেমেছে।
এদিকে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রনজিৎ সরকার শুক্রবার দুপুর ২.৩০ মিনিটের সময় মুঠোফোনে বলেন, ৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) অফিস শেষে অধিদপ্তরের চিঠি পেয়েছি। তাই কর্মস্থলে কারো থাকা সম্ভব হয়নি। তবে আজ ৮ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরী সভা আহবান করা হয়েছিল।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, ইউনিয়ন পরিষদে জরুরী সভা করে পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তত রাখা এবং ইউডিএমসির সদস্যদের দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের শুকনা খাবার মজুদ রাখাতে বলা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে জানান তারা।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের সকল বিভাগকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিকেলের জরুরী সভায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

শেয়ার