ল্যাপটপ নিতে দুর্বৃত্তদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
যশোরের একতা হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় খুনের চার্জশিট শিঘ্রই

লাবুয়াল হক রিপন
বিদেশ থেকে মামার পাঠানো দামি ল্যাপটপটি কাল হয়ে দাঁড়ালো ক্লিনিক কর্মচারী দায়িনুলের। ল্যাপটপটি হাতে পাওয়ার মাত্র চারদিনের মাথায় পরিচিত চার যুবক পণ্যটি হাতিয়ে নিতেই পরিকল্পিতিভাবে খুন করে দায়িনুলকে। ইতিমধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত ওই চার যুবককে গ্রেপ্তারও করেছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফখরুল ইসলাম খুন হওয়ার এক বছর পর এমন ক্লু উদঘাটন করেছেন। খুব দ্রুতই আদালতে মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।
সূত্র মতে, শার্শা উপজেলার কণ্যাদাহ গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে দায়িনুল ইসলাম যশোর শহরের একতা প্রাইভেট হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় পদে চাকরি করতেন। পাশাপাশি তিনি চুড়ামনকাটি টেকনিক্যাল এন্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছাত্র ছিলেন। ২০১৮ সালের প্রথম দিক থেকে দায়িনুল ইসলাম যশোর শহরতলীর নূরপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার দবির উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই বছরের ৫ আগস্ট দায়িনুলের মামা আমেরিকা থেকে তার জন্য একটি মূল্যবান ল্যাপটপ পাঠান। ল্যাপটপটি হাতে পেয়ে নিজের কাছেই রেখে ব্যবহার করতেন। এতে তার পূর্ব পরিচিত শার্শা উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শওকত মোড়লের ছেলে রুমিন হোসেন, সদর উপজেলার নূরপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে বাপ্পি, আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল আমিন ওরফে জীবন এবং নতুন খয়েরতলা হর্টিকালচার এলাকার মুশফিকের নজর পড়ে। এক পর্যায় তারা ল্যাপটপটি দায়িনুলের কাছ থেকে নিয়ে নিতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু বিভিন্ন কৌশলে ল্যাপটপটি না পেয়ে তাকে খুন করতে পরিকল্পনা করে। ২০১৮ সালের ৯ আগস্ট দুপুরে দায়িনুরলর মা মিরা জাহান তার ভাড়া বাসায় গিয়ে ছেলের সাথে দেখা করে আবার বাড়িতে ফিরে যান। ওইদিন রাত ১০টার দিকে আবার দায়িনুলের মোবাইল ফোনে রিং করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ১১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দায়িনুলের খালাতো ভাই আসাদুজ্জামান বাদল তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। কিন্তু ভিতর থেকে কেমন একটা দুর্গন্ধ আসছে। বিষয়টি বাদল দায়িনুলের মাকে জানান। পাশাপাশি স্থানীয়রা থানা পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙ্গে দায়িনুলের লাশ উদ্ধার করেছে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
আর এর পর থেকেই খুনিরা গা-ঢাকা দেয়। এক পর্যায় রুমিন নামের ছেলেটি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা দেখে ফেলায় তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রুমিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মেজবাহকে ও গ্রেপ্তার করে। কয়েকদিনের মাথায় জামিনে মুক্তি পায় রুমিন। রুমিন হত্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য দায়িনুলের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায় জীবন বাঁচাতে দায়িনুলের পরিবার বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যত্র বসবাস করেন। এব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে।
এরই মধ্যে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান যশোরের সিআইডি পুলিশের এসআই ফখরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন তদন্তের পর এ হত্যাকা-ে চারজনের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন। আর ল্যাপটপ চুরি করতেই তার পরিচিত চার বন্ধু দায়িনুলকে খুন করেছে বলে তিনি মনে করেন। এব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়। যে কোন সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

শেয়ার