পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জনে তৃপ্তি পান আব্দুর রাজ্জাক

নুসরাত জাহান
আব্দুর রাজ্জাক, বয়স ৩৫। শারীরিক প্রতিবন্ধী এ মানুষটির উচ্চতা ৫ বছরের শিশুর মতো। হরমোনজনিত সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের পরে আর উচ্চতা বাড়েনি তার। তাই স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে তার দিকে প্রায় সকলেই বাঁকা চোখে তাকায়। খর্বাকৃতির কারণে মা-বাবার আদর থেকে কখনো বঞ্চিত হয়নি-জানালেন তিনি। ফলে আশেপাশের মানুষের বাঁকা চোখে তাকানো বা অন্যভাবে দেখাকে মাথায় নেননি রাজ্জাক। নেননি প্রতিবন্ধী ভাতাও। পরিশ্রম করেই তিনি নিজের জীবন গড়ছেন। নিজ আয়ে সংসার চালান। সন্তানকে পাঠান স্কুলে। সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি।
তার সেই সংগ্রামের কথা শুনিয়েছেন এ প্রতিবেদককে। বললেন, বয়স যখন বাইশ তখনই ঠিক করলাম সংসারে অন্য ভাইদের মত সাহায্য করবো। সেইভেবে অল্প কিছু টাকা নিয়ে শুরু করলেন তোয়ালে গামছা বিক্রি। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর রাজবাড়ি থেকে চলে এলেন যশোরে। যশোরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে শুরু করলেন তোয়ালে বিক্রি। জানালেন, তার গ্রামের বাড়ির থেকে কিছুটা দূরেই গামছা তোয়ালে তৈরি করা হয়। সেখান থেকেই চিন্তাটা মাথায় আসে। প্রতিমাসে কয়েকবার গ্রামে যায় এগুলো নিয়ে আসার জন্য। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ পিস গামছা-তোয়ালে বিক্রি হয়। মাসে সাত থেকে আট হাজার টাকা উপার্জন হয়। এ দিয়ে মোটামুটি ভাল আছি।
যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে কি না জানতে চাইলে বলেন, কারও কাছে হাত না পেতে কিংবা অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজে আয় করছি। মেয়েটা ক্লাস টু তে লেখাপড়া করছে। তার খরচ দিচ্ছি। বর্তমানে আমরা স্টেশনের পাশে বাসা ভাড়া করে বসবাস করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি খর্বাকৃতির। আমার বউয়ের পরিবার আমাদের চেয়ে একটু গরিব। এজন্য সে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিল। তবে এখন আমরা খুব ভাল আছি। মেয়েকে নিয়ে সুখে আছি। নিজের খরচসহ স্ত্রী সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারছি; এরচেয়ে বড় তৃপ্তির বিষয় আমার কাছে আর কিছুই নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি ভিক্ষা করা পছন্দ করি না। পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জনেই বেশি তৃপ্তি। আমি মনে করি প্রতিবন্ধী সমাজের বোঝা না। এজন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করি।