যশোরে খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

জাহিদ হাসান
চলছে উৎসবের ঋতু হেমন্তকাল। এর পরেই আসবে শীতের প্রাণ পৌষ ও মাঘ মাস। কিন্তু এর আগেই প্রকৃতিতে শীত শীত ভাব বিরাজ করছে। এমন পরিবেশ বুঝে যশোরের গাছিরা আগাম খেজুর গাছ পরিচর্যা শুরু করেছেন। যারা খেজুরগাছ রস সংগ্রহের কাজ করে তাদেরকে গাছি বলে। আগাম রস পাওয়ার আসায় যশোরের গাছিরা গাছে রস আনার জন্য পুরোদমে পরিচর্যা শুরু করেছে। গাছ তোলা, ঠিলে ধোয়া, রস জ্বালানোর চুলা তৈরিসহ নানা কাজে ব্যস্ত যশোরের গাছিরা। সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
জানা গেছে, যশোরের ঐতিহ্য খেজুরের রস-গুড়-পাটালি। এ জেলার উৎপন্ন গুড়-পাটালি স্বাদে ও সর্বোৎকৃষ্ট। তাই খেজুর গুড়ের প্রসঙ্গ উঠে আসলে সবার আগে যশোরের কথা উঠে আসে। এ জেলায় খেজুর গাছের জন্য একটি গ্রামের নামই হয়েছে খাজুরা গ্রাম। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষই খেজুর গাছের রস এবং চাষের সাথে সম্পৃক্ত।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় আট উপজেলায় খেজুর গাছ রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি রয়েছে যশোর সদর, মণিরামপুর, শার্শা, চৌগাছা, বাঘারপাড়ায়। জেলায় ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৫১৪টি খেজুর গাছ রয়েছে। গত বছর ৪ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন গুড়-পাটালি ও প্রায় ৪০ মেট্রিক টন রস উৎপাদন হয়েছে। এবার প্রায় ৫ লক্ষ গুড়-পাটালি উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
যশোরের খাজুরা মাঠপাড়া গ্রামের গাছি আব্দুল জলিল বলেন, যশোরের ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তের পথে, কারণ আগের মত খেজুর গাছ এখন আর দেখা যায় না। এবছর ৩০টির মতো খেজুরগাছ পরিচর্যা করছি। আগাম রস আনতে পারলে রস এবং নলেন গুড়-পাটলির ভালো দাম পাবো।
একই এলাকার চাষি নজরুল, ইবাদত, সালাম মোল্লারা সমাজের কথাকে জানান, খেজুরগাছ থেকে রস বের করা এবং ভোরে গাছ থেকে রস নামানো খুব কঠিন কাজ এবং ঝুঁকি নিয়ে গাছ কাটা হয়। এতো কষ্ট করেও গুড়ের দাম না পাওয়ায় অনেকে এ কাজে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক ইমদাদ হোসেন সেখ জানান, যশোরের ঐতিহ্য খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। সরকারিভাবে খেজুর গাছ রোপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের লোকেরা খেজুরগাছের গুড় সংগ্রহের প্রতি বেশি উৎসাহী না হওয়ায় কিছুটা গাছ কমেছে বলে তিনি মনে করছেন।