মোংলা বন্দর জেটির কন্টেইনার ইয়ার্ড থেকে আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগ

মোঃ লোকমান হোসেন, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কন্টেইনার ইয়ার্ড থেকে আমদানী পণ্য চোরাই পথে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক সরদার সহ প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের কবল থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু মুল্যবান(আমাদানী পণ্য) মালামাল জব্দ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মীরা। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বন্দর জেটি থেকে কোটি কোটি টাকার মালামাল পাচার হলেও তার বেশীর ভাগই এখনও উদ্ধার করা যায়নি। আর অদৃশ্য কারণে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে একদিকে বন্দরের সুনাম ণষ্ট হচ্ছে অপর দিকে পন্য আমদানী কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
বন্দরের বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মোংলা বন্দরের জেটিতে কসমেটিকস, চিকিৎসা, ইলেকট্রনিক্স, গার্মেন্টস, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, প্রসাধনীসহ কন্টেইনার বাহি নানা পণ্যের আমদানী বেড়েছে। আর ওইসব পণ্য খালাসের জন্য বন্দরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জেটি সর্দারের কার্ড নেয়ার বিধান রয়েছে শ্রমিক পরিচালনার জন্য। আর এ সুযোগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র বন্দরের ট্রাফিক শাখার উচ্চমান সহকারী এক কর্মচারীকে ম্যানেজ করে ওই কার্ড সংগ্রহ করেন। বন্দরের জেটির সংরক্ষিত এলাকা থেকে মালামাল পাচার ও নিজেদের আত্মরক্ষায় ওই চক্রের সদস্যরা শ্রমিক সরদার, সুইপারসহ নানা পেশার আইডি কার্ড গ্রহন করে বন্দরের ট্রাফিক শাখা থেকে। এর পর চক্রটি জেটি থেকে আমদানী পণ্য কৌশলে বাইরে বের করে পাচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আয় করে থাকে। মোংলা বন্দরের উর্দ্ধতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের পর গত ২৮ অক্টোবর জেটিতে কর্মরত শ্রমিক সরদার সাগর শেখ, নুরুল আমিন, মোঃ সেলিম ও নজরুলের চারটি বক্স তল্লাশি করে মোংলা বন্দরের নিরাপর্তা রক্ষীরা। ওই সময় জব্দ করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ৬টি পাটি ¯েপ্র, সাইকেলের লুকিং গ্লাস বক্স, ১৫ আইটেমের ইজি বাইকের মালামাল, চল্লিশ পিস তালা, ৪৩ ডজন বলপেন, লিপিষ্টিক ছয় বক্স, সাইকেলের ষ্টান্ড, গাড়ীর হর্ণ, ষ্টীলের টানা, কব্জা, জুতা, শিতের জ্যাকেটসহ বিভিন্ন মালামাল। পাচারের এ ঘটনায় জড়িত সরদারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বন্দরের নিরাপত্তা প্রধান মোঃ আবদুল আলীম জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে থাকায় এ বিষয়ে পুরোপুরি তদন্ত শেষ করতে পারেননি। তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বন্দরের একটি সুত্রে জানাযায়, চলতি বছরের ২০ আগষ্ট জেটিতে আমদানী করা মোবাইল যন্ত্রাংশ ও প্রসাধনী সামগ্রী পাচারের সাথে জড়িত থাকায় শ্রমিক রুবেল, নাসির তালুকদার ও মোঃ জুয়েল কে হাতেনাতে আটক করে মোংলা থানায় হস্তান্তর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে সংরক্ষিত জেটি এলাকা থেকে দেড়কোটি টাকা মুল্যের বিলাসবহুল গাড়ী, কন্টেইনার থেকে কয়েক কোটি টাকা মুল্যের গার্মেন্টস পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটে। জেটি থেকে মালামাল পাচারসহ এমনসব ঘটনায় সহযোগীতার অভিযোগে ইতিমধ্যে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে বন্দরের এক সুইপার ও এক শ্রমিককে।
এ দিকে বিদেশ থেকে আমদানী করা কিছু পণ্য শ্রমিকরা জেটি থেকে পাচার করে এনে প্রায় সময় বিক্রি করছে মোংলা শহরের সিংগাপুর মার্কেটসহ অন্যান্য স্থানে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক শ্রমিক জানান, জেটিতে কর্মরত শ্রমিক সরদাররা কন্টেইনারের পেটি ভেঙ্গে পাচার করে থাকে বিভিন্ন আমদানী করা মালামাল। ওইসব পাচারের মালামালের বড় চালান গুলো খুলনায় বিক্রি করে থাকে। ওই শ্রমিকের দাবি পাচারের ঘটনার সাথে বন্দরের নিরাপত্তা শাখার কয়েকজন ও আমদানীকৃত পণ্যের সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট’র কতিপয় কর্মকর্তারা জড়িত। তাদের গাড়িতে ওইসব মালামাল পাচার করে বাইরে বের করা হয়। ওই শ্রমিকের ভাষ্য মতে, লেবার সরদারের কাজ করে জেটির কয়েক জন বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। গাড়ীতে কিভাবে মালামাল জেটি থেকে বের হয় এমন প্রশ্নের জবাবে বন্দরের উর্ধতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আয়ুব আলী জানান, তথ্য থাকলে তারা গাড়ী তল্লাশি করে থাকেন। কিছু দিন পূর্বে কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়ী তল্লাশি করে বেশ কিছু বিদেশি জুতা জব্দ করেছেন তারা। এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী আহ্সান হাবিব হাসান বলেন, মোংলা বন্দর ক্রমেই কর্ম চঞ্চল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় কন্টেইনারে বিভিন্ন পণ্য আমদানীও কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র কন্টেইনারে আমদানীকৃত পণ্য খালাসের অন্তরালে মূল্যবান জিনিষপত্র পাচার করে এ বন্দরের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমদানীকারকরা এ বন্দর ব্যবহারে অনেকটাই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারেন। যাতে করে এখানে আমদানী পণ্য আসা কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি জেটি থেকে মালামাল পাচার রোধে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আরও বেশী জোরদার পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

শেয়ার