পুলিশের জালে সরকারি স্টিকারযুক্ত মাইক্রোবাস
যশোরে অর্ধকোটি টাকাসহ তক্ষতসাপ প্রতারণা চক্রের দু’সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সরকারি স্টিকার সাঁটা একটি মাইক্রোবাস তল্লাশি করে সাড়ে ৫৪ লাখ টাকাসহ তক্ষক চোরাচালান চক্রের দুইজনকে আটক করেছে যশোর ডিবি পুলিশ। বুধবার বিকেলে যশোর-বেনাপোল সড়কের পুলেরহাট মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক দুইজন হলেন, নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কাজী মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে কাজী মাসুদ পারভেজ এবং গোপালগঞ্জের মুকছুদপুর উপজেলার আইকাদিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে রেজাউল ইসলাম। একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে গাড়িচালক আবুল খায়েরকে। তার বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারপুর উপজেলার বড়ুরা গ্রামে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যার দিকে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, তারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন, সরকারি স্টিকার সাঁটা একটি গাড়িতে মাদক বহন করা হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে পুলেরহাটে অবস্থান নেয় ডিবির একটি টিম। মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্টো-চ-১৬-৬৮৭০) থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, কোনো মাদক না, বেশ কিছু টাকা আছে তাদের সঙ্গে। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে সংবাদকর্মীদের সামনে চারটি ব্যাগ থেকে ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, এই ধরনের অপরাধীদের বলা হয় আরটিসি (রিয়েল চিটিং ডিপার্টমেন্ট)। আবার হোয়াইট কালার ক্রিমিনালও বলা হয়ে থাকে। দেখতে বেশ স্মার্ট, কথাবার্তায় পারদর্শী, সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষের সঙ্গে চলাফেরা এদের। দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে সহজে সন্দেহ করতে না পারেন, সে জন্য গাড়িতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে থাকেন। তারা যে সিলভার রঙের মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করছিলেন, সেটিতে সরকারি স্টিকার সাঁটা ছিল। সেখানে লেখা ছিল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’।
ব্রিফিংকালে ডিবির ওসি মারুফ আহম্মদ, কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান, ডিবির এসআই শামীম আহমেদ, এসআই মফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আটক রেজাউল ইসলাম ও মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, তারা বন্যপ্রাণী তক্ষক কেনাবেচার মধ্যস্থতাকারী। ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসটি আট হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের পাশের একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে তক্ষকের একটি ছোট হাড় কেনাবেচা হয় এক কোটি টাকায়। তারা সেকেন্ড পার্টি। প্রথম পার্টি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। আর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তারা নেন ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। এই টাকা নিয়ে তারা ঢাকায় ফিরছিলেন।
তারা আরো জানিয়েছেন, এই টাকার তিন ভাগের এক ভাগ তারা দুইজনে পাবেন। বাকি দুই ভাগ দেওয়া হবে অন্য পার্টিকে। অন্য পার্টি কারা এই বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মাসুদ পারভেজ আইটি ব্যবসায়ী। ঢাকার শ্যামলীতে ‘স্মার্ট আইটি’ নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। আর রেজাউল ইসলাম হাউজ বিল্ডিং ঠিকাদার। তিনিও ঢাকায় থাকেন।

শেয়ার