পলাতক খুনিদের খোঁজখবর রাখছি: প্রধানমন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকারে এসে যুদ্ধাপরাধী, জেল হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। তবে জেল হত্যায় এখনও যে কয়জন খুনি বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে আছে, তাদেরও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতি স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর জেল হত্যার খুনিদের দোসর, খুনিদের মদদদাতা। তাদের স্থান বাংলার মাটিতে ভবিষ্যতেও কোনোদিন হবে না। তাদের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষকে সেইভাবেই চিন্তা করতে হবে।’
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দলের যিনি চেয়ারপারসন, তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে এখন জেলে। আবার ভারপ্রাপ্ত যাকে করল সেও সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও পলাতক। বিএনপিতে এতই নেতার অভাব হয়ে গেল, তারা একজনও নেতা পেল না। বিএনপির নেতৃত্বের এখন এই পরিস্থিতি।’
‘আমি জানি না, যারা বিএনপি করে তাদের কোনো মেরুদ- আছে কি না সেটাই আমার সন্দেহ। তাদের আত্মমর্যাদা বোধ আছে কি না, সেটাই আমার সন্দেহ। তারাই আবার সেই মায়াকান্না কাঁদে।’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগ সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে জাতির পিতা যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য বাংলাদেশ আজকে সারাবিশ্বে এতো দ্রুত উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজকে সারাবিশ্বে উন্নয়নের একটা বিস্ময়, প্রত্যেকেই এই কথাটা বলে। এই সম্মানটাই আমাদের ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধী, খুনি এদের সাজা হয়েছে, বিচার হয়েছে। এদের যারা দোসর বা ষড়যন্ত্রকারী, আজ যদি তাদের বিচার করে যেতে না পারি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের বিচার করবে। ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না। ষড়যন্ত্রকারীরাও একসময় ধরা পড়বে। তাদের এই রহস্য উদঘাটন অবশ্যই হবে। কেউ না কেউ এটা করবেই, এটা আসবেই, এটা হবেই।
এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নাম যখন দেশ থেকে মুছে ফেলেছিল, তখন তারা ভেবেছিল আর কোনদিন এই নাম ফিরে আসবে না। কিন্তু তা হয়নি। ২১ বছর পর আবার ফিরে এসেছে। আবারও সময় আসবে আমাদের।
এই দেশ থেকে অন্যায় অবিচার দূর হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে, দেশের মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছে, জীবন দিয়েছে। যাদের রক্তের বিনিময়ে মহান আত্মত্যাগে এই স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা কখনও ব্যর্থ হতে পারে না, ব্যর্থ হয় নাই। ভবিষ্যতেও আর ব্যর্থ হবে না।
‘রাজাকার খুনি আলবদর, আলশামস এবং রাজাকার বাহিনী। যারা ৭৫’এ ১৫ আগস্ট ও ৩রা নভেম্বর খুনিদের দোসর, খুনিদের মদদদাতা। তাদের স্থান বাংলার মাটিতে ভবিষ্যতে কোনদিন হবে না, ইনশাল্লাহ।’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীরবিক্রম), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।
যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

শেয়ার