১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ৮ মাস বিদেশে !

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় এক স্কুল শিক্ষিকা চিকিৎসার জন্য ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ৮ মাস ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি উপজেলার ৩৪ নং ধানসাগর ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম আকতার মৌরীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিদের দায়িক্ত কর্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের পহলান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক সেলিম হোসেন সর্দারের মেয়ে মরিয়ম আকতার মৌরী ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে যোগদান করেন। চাকরি নিয়ম অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ ছুটি প্রাপ্য ৪৫ দিন।
কিন্তু ভারতে চিকিৎসার জন্য প্রথম দফা ৩৮.০১.০০০০.১৪০.০৮.০৯৪.২০১৮-৬৭৯(৩২) নং স্বারকের ৭নং তালিকায় ৪০দিন ছুটি নিয়ে প্রায় ৩ মাস এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৮.০১.০০০০.১৪০.০৮.০০৮.২০১৯-৩৯(৪৫) নং স্বারকের ১নং তালিকায় চলতি বছরে ১৫ দিন ছুটি নিয়ে ৮ মাস ধরে তিনি ভারতে অবস্থান করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ না নেয়নি। যেকারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে, উপজেলার এক (অবসর প্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বলেন, চাকরির বিধি অনুসারে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন বিদেশ থাকাটা চাকরির নীতিমালা পরিপন্থী।
এছাড়াও ২০১৩ সালে উপজেলার ৭৮টি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ার পর ২০১৫,২০১৬ ও ২০১৭ সালে উপজেলার দক্ষিন ধানসাগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হাসিনা বেগম কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ৬ মাস আমেরিকায় অবস্থান করেন। তবে হাজিরা খাতাসহ সার্ভিস বুকে তা এন্ট্রি না হওয়ায় পরবর্তীতে পেনশনের সম্পুর্ণ সুবিধা ভোগ করেন তিনি। এ ধরনের অনিমের লাগাম টানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।
অপরদিকে, ধানসাগর ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জুরানী বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে মৌরী বিদেশ গমন করছেন। সেক্ষেত্রে তার কোন বক্তব্য নেই। এছাড়া ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে কেন তিনি দীর্ঘ দিন ভারতে অবস্থান করছেন তার জবাব মৌরি কর্তৃপক্ষকের কাছে দিবেন। তবে ওই শিক্ষিকার হাজিরা স্থলে চিকিৎসা ছুটি লেখা রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে অবস্থান করায় মৌরির বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার মা শিক্ষিকা সেলিনা বেগম বলেন, অসুস্থতার কারণে তার মেয়ে ভারত গেছেন। কাগজপত্র আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্যার (উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা) ঠিক করে দেয়ার কথা বলেছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে কোন লেখালেখি না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলামের ০১৭১৪৯০৮৩২৬ নং মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, সিনিয়র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পাইক জানান, ওই শিক্ষিকার ছুটি মঞ্জুর করতে হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট আবেদন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ছুটি কালীন সময়ে তিনি কোন বেতন ভাতা ভোগ করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার