মনিপুরের ভিন্নমতাবলম্বী নেতাদের ‘প্রবাসী সরকার’ ঘোষণা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতের মনিপুর রাজ্যের ভিন্নমতাবলম্বী নেতারা ব্রিটেনে ‘প্রবাসী মনিপুর সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার লন্ডনে রাজ্যটির ভিন্নমতাবলম্বী দুই নেতা নিজেদের রাজা লেইশিম্বা সানাজাওবার প্রতিনিধি দাবি করে এ ঘোষণা দেন, জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে দ্য হিন্দু।
এ সময় তারা একতরফাভাবে ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বলে দোহাভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে স্বঘোষিত ‘মনিপুর স্টেট কাউন্সিলের মুখ্যমন্ত্রী’ ইয়ামবেন বিরেন ও ‘মনিপুর স্টেট কাউন্সিলের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী’ নারেংবাম সমরজিৎ জানান, তারা ‘মনিপুরের মহারাজার’ পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী সরকার ‘দ্য মনিপুর স্টেট কাউন্সিল’ শুরুর ঘোষণা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লন্ডনের ভারতীয় হাই কমিশন থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি বলে দ্য হিন্দু জানিয়েছে।
বিরেন ও সমরজিৎ ২০১৯ সালের অগাস্ট থেকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন বলে নথিপত্র দেখিয়েছেন।
তারা জানান, যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর ‘বৈধ সরকার মনিপুর থেকে লন্ডনে স্থানান্তরিত হয়েছে’।
“বিশ্বের কাছে স্বাধীন মনিপুর সরকারকে তুলে ধরার ও স্বীকৃতি চাওয়ার এটিই সঠিক সময় বলে আমরা মনে করি। জাতিসংঘের সদস্য সার্বভৌম সরকারগুলোকে মনিপুরের বৈধ ও প্রবাসী সরকারকে আজ থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। “৩০ লাখ মনিপুরি জনতা একটি মর্যাদাবান স্থানীয় জাতি হিসেবে স্বীকৃতি চায়।”
সমরজিৎ বলেন, “সেখানে আমরা মুক্ত নই এবং আমাদের ইতিহাস ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আমাদের সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই জাতিসংঘের শোনা উচিত, গলা উঁচু করে পুরো বিশ্বকে বলছি মনিপুরে যারা বাস করে তারা মানুষ।” মনিপুরে ‘এক হাজার ৫২৮টিরও বেশি বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের বিষয়ে মামলা ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন’ বলে দাবি করেছেন তারা।
তারা দাবি করেন, “মনিপুর স্টেট কনিস্টিটিউশন অ্যাক্ট ১৯৪৭ এর অধীনে মনিপুর রাষ্ট্রের বৈধ সরকার গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট এটি ব্রিটিশ রাজ থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল। ১৯৪৯ অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে ভারত সরকার মনিপুর রাষ্ট্রকে আত্মীকরণ করে নেয়।”

এই দুই নেতা জানান, তারা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বরাবর একটি আপিল করবেন এবং প্রিভি কাউন্সিলের আদেশ পাওয়ার পর স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবেন।
ভারতের ছোট রাজ্যগুলোর একটি মনিপুর। এর জনসংখ্যা প্রায় ২৮ লাখের মতো। এই রাজ্যটি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের কথিত ‘সেভেন স্টিস্টার্সের’ অন্যতম।
ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার দুই বছর পর ১৯৪৯ সালে রাজা শাসিত মনিপুর ভারতের অংশ হয়। কিন্তু ওই সময় থেকেই কয়েক দশক ধরে সেখানে সহিংস বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলে আসছে।

শেয়ার