আ’লীগ নেতা নজরুল ইসলামের ৬ষ্ঠ হত্যাবার্ষিকী পালিত
হত্যাকারীরা এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা ও টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলামের ৬ষ্ঠ হত্যাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জেলা টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা কাউসার আহম্মেদ, মহিউদ্দিন, সহকারী সম্পাদক নূর আফসার জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল আহম্মেদ, একই সংগঠনের পূন্য সাহা, নৃপেন চন্দ্র বিশ্বাস, আল আমিন মাঝি, মিকাইল শেখ, আলতাপ, আলিম প্রমুখ।
২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে যশোর শহরের ঢাকা রোড বারান্দীপাড়া তালতলায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন পৌর নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম। এসময় বারান্দীপাড়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিছুর রহমান ফিঙে লিটনের ভাই সাইদুর রহমান ডিম রিপনের নেতৃত্বে নজরুল ইসলামের ব্যবসায়িক অফিসে হামলা চালানো হয়। ওই সন্ত্রাসীরা নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নজরুল ইসলাম মাটিতে পড়ে গেলে আরো কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আহত নজরুল ইসলামকে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেলে নেয়ার পর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাগ্নিজামাই জুয়েল হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলার অধিকাংশ আসামি ফিঙে লিটন পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়স্বজন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিছুর রহমান ওরফে ফিঙে লিটনের পরিবারের ডজনখানেক সদস্য শহরের মণিহার, বারান্দীপাড়া, নীলগঞ্জ সাহাপাড়া ও তাঁতীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাই, ডাকাতি, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ মূলক অপকর্ম চালিয়ে আসছে। আর তাদেরকে চাঁদার টাকা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তাকে খুন করাসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়। ফিঙে লিটনের ছোটভাই সাইদুর রহমান রিপন ওরফে ডিম রিপন প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এলাকায় বোমার বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করে নিজেদের ক্ষমতার প্রদর্শন দেখায়।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেপথ্য ইন্ধনে ওই সকল বোমার ও গুলির ঘটনা অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন ওই এলাকায় সালিশের নামেও আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। ফিঙে লিটনের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার ভাই ডিম রিপন ও ইনসান, ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নু, নান্নুর ভাই মাহফুজুর রহমান পান্নু, বাবু, লাভলু, ভগ্নিপতি সিরাজুল ইসলাম সিরা ও সেলিম পলাশ, সিরার দুই ছেলে সেতু ও জিতু, শ্যালক শামিম, খালাতো ভাই রফিকসহ অন্তত দুই ডজন সন্ত্রাসী বর্তমানে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের সকলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বোমা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু তারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় সশস্ত্র চলাফেরা করায় স্থানীয় লোকজন ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছে।
তদন্ত শেষে নজরুল হত্যা মামলায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে ডিবি পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। আর হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে আটক এবং এজাহারনামীয়সহ মোট ১৩ আসামির অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল চার্জশিটে।
অভিযুক্তরা হলো, শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার ফিঙে লিটনের ভগ্নিপতি সেলিম পলাশ, লিটনের ভাই পূর্ববারান্দি মোল্যাপাড়ার সাইদুর রহমান রিপন ওরফে ডিম রিপন, আরেক ভগ্নিপতি এবিএম মাসুদুর রহমান নান্নু, নান্নুর ভাই মাহাফুজুর রহমান নান্নু ও বাবু, ভাগ্নে সেতু, বুনো মিন্টু ও জনি বুনো, সমশের আলী টুকু ওরফে কসাই টুকু ওরফে টুকু চোর, বারান্দিপাড়া কদমতলার বাবু, সিটি কলেজ পাড়ার রশিদ বিহারি, পাউডার মোমিন ও শংকরপুর চাতালের মোড়ের শিপন ওরফে লম্বা শিপন।

শেয়ার