২ নভেম্বর থেকে জেএসসি পরীক্ষা শুরু
যশোর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ২ লাখ সাড়ে ৩৮ হাজার, কেন্দ্র বেড়েছে ৮টি

জাহিদ হাসান
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে আসন্ন জুনিয়র স্কুল সার্টেফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গত বছর অংশ নিয়েছিলো ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮২২ জন। এ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মতে গত বছরের তুলনায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী বেড়েছে। বেড়েছে ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্রও। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুন্দ্র।
শিক্ষাবোর্ড সূত্র মতে, সারা দেশের ন্যায় যশোর বোর্ডে ২ নভেম্বর থেকে জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৮৩৭ জন ও ছাত্র ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৭৭ জন। যা গত বছর অংশ নিয়েছিলো ছাত্র ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৭ জন ও ছাত্রী ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৩৫ জন।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় প্রায় ২ হাজার ৯১৩টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ২৮৬টি কেন্দ্র এবার পরীক্ষা দিবে। শিক্ষার্থীরদের সুযোগ সুবিধা ও প্রশ্নফাঁস-দুর্নীতি রোধ করতে ৮টি কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে। খুলনা জেলায় ৫৬টি কেন্দ্রে ৩২ হাজার ১৯১ জন শিক্ষার্থী, বাগেরহাট জেলায় ২৬টি কেন্দ্রে ১৯ হাজার ২৯২ জন শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা জেলায় ২৫টি কেন্দ্রে ২৬ হাজার ৫৪ জন, কুষ্টিয়া জেলায় ২৮টি কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ৩৯৯ জন, চুয়াডাঙ্গার ১৬টি কেন্দ্রে ১৭ হাজার ৭১৯ জন, মেহেরপুর জেলায় ১১টি কেন্দ্রে ১২ হাজার ২৫ জন, যশোর জেলায় ৪৮টি কেন্দ্রে ৩৭ হাজার ১৮৪জন, নড়াইল জেলায় ১৩টি কেন্দ্রে ১২ হাজার ৫৭৬ জন, ঝিনাইদহ জেলায় ৩৫টি কেন্দ্রে ২৯ হাজার ৩৩৭ জন, মাগুরা জেলায় ১৬টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৭৩৭ জনসহ সর্বমোট ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫১৪ শিক্ষার্থী অংশ নিবে। এসকল কেন্দ্রগুলো ও পরীক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৩ শতাধিক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের নিয়ে চলতি মাসের গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর দুইদিন ব্যাপী মতবিনিময় সভা করা হয়। এছাড়া বোর্ড কর্তৃক ১০টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিটি জেলায় সুষ্ঠ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে পর্যলোচনা করবে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুন্দ্র সমাজের কথাকে জানান, প্রশ্নফাঁস রোধ ও নকলমুক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোই এবারে কেন্দ্র বাছাই করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে তালিকা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র স্ব স্ব বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র ডাইনলোড করে নিচ্ছে। এছাড়াও পরীক্ষার সময়সূচি বোর্ডের ওয়েব সাইটে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় মাস ব্যাপী এই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধ ও সুষ্ঠ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সকল পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিটি আগে পরীক্ষা কেন্দ্র’র রুমে উপস্থিত থাকতে হবে। বিশেষ চাহিদা অনুযায়ী পরীক্ষার্থী কেন্দ্র সচিবের কাছ থেকে অতিরিক্ত সময় ব্যাপারে যোগাযোগ করবে। তাছাড়া প্রতিবন্ধী পরীক্ষাথীর জন্য একজন শ্রুতি লেখক দেওয়া যাবে। কিন্তু শ্রুতি লেখকটি অবশ্যই ৮ম শ্রেণির নিচে হতে হবে। অন্যবারের ন্যায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা সেটে প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি উপজেলায় পরীক্ষার তিন সেট প্রশ্ন পত্র ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে। আশা করি সুন্দর, দুনীর্তি , নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সমপন্ন করতে পারবো।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবার্ডর চেয়ারম্যান আব্দুর আলীম জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসন্ন জেএসসি পরীক্ষায় সুষ্ঠভাবে গ্রহণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোন পরীক্ষার্থী দেরি করে কেন্দ্র প্রবেশ করলে তাদের জন্য আলাদা রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর ও কারণের ব্যাখ্যা লিখে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার হলে কেন্দ্র সচিব বাদে কেউ প্রশ্নপত্র খোলা ও কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্য কারো কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।