কয়রায় মুদি দোকানে দুর্বৃত্তের আগুন ভেঙ্গে নিলো দরিদ্র মনরঞ্জনের স্বপ্ন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥ খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়ানী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকার মনোরঞ্জন মন্ডলের মুদি দোকান অগ্নিকান্ডে ভষ্মিভূত হয়েছে। গভীর রাতে দোকানটি আগুনে ভষ্মিভুত হওয়ায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে পরিবারটির সদস্যরা। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই দোকানটি গত তিন বছর আগে কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কয়রার মহেশ্বরীপুর নয়ানী খেয়াঘাটের রাস্তার একপাশে সরকারি খাস জমির উপর শুরু করেছিলেন মনরঞ্জন মন্ডল ও তার পুত্র অজিত মন্ডল। দোকানটির পাশেই শ্রীশ্রী রাস মন্দির। মন্দিরের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রগুলো রাখা হতো দোকানটিতে। কয়েকদিন পর মন্দিরের মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র, বাজার সদাই সংরক্ষণ করা হয়েছিলো দোকানের ভিতর। কিন্তু দোকানের জিনিসপত্রের সাথে সেগুলোও পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে-এমনটিই জানালেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ভবতোষ মিস্ত্রী।
দোকান মালিকের সাথে কথা বলে জানাজায়, তিনি প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। রাত আনুমানিক দুটোর দিকে আগুন দেখে স্থানীয় লোকজনের ডাক চিৎকার শুনে এসে দেখেন তাদের দোকান ঘরে আগুন জ্বলছে। সাথে-সাথেই ছুঁটে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও দোকান ঘর ও মালামাল রক্ষা করা যায়নি।
দোকান মালিক, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি দোকানটি শত্রুতার জেরে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রমাণস্বরুপ তারা দোকানের পাশের টিনের বেড়ার কাটা অংশ ও কয়েক টুকরা পেট্রোল মাখানো কাপড়ের টুকরো আর পুড়ে যাওয়া দোকানের পাশের ঘর মালিক সামাদ সর্দারের সাথে পূর্ব শত্রুতার ফিরিস্তি তুলে ধরে বিচার দাবিতে স্থানীয় শ্রীশ্রী রাস মন্দিরের সামনে মানববন্ধন করেছেন। ২৮ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ইউপি সদস্য মহাশীষ সরকার,্ওই ওর্য়াডের ইউপি সদস্য ভবতোষ মিস্ত্রী,যজ্ঞ কমিটি ও মন্দির কমিটির সভাপতি বিকর্ন মন্ডল, কয়রা ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা সাগর ঘরামী, ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক মনরঞ্জন মন্ডল, তার পুত্র অজিত মন্ডলসহ স্থানীয় নারী পুরুষ।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ রোবিউল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। অপরাধি যেই হোক না কেন, কোন ছাড় পাবে না।

শেয়ার