যশোরের মেধাবী ছাত্র নিপু বিশ্বাসের মেডিকেলে ভর্তির খরচ দিলেন শাহীন চাকলাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অদম্য মেধাবী নিপু বিশ্বাসের মেডিকেলে ভর্তির বন্ধ দুয়ার খুলে দিলেন শাহীন চাকলাদার। অর্থাভাবে মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবেন কি না সেটি অনিশ্চিত ছিল নিপুর। কিন্তু চিকিৎসক হবার সেই ফিকে হয়ে আসা স্বপ্ন পূরণ করলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। গতকাল রোববার নিপুকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার হাতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির যাবতীয় খরচ তুলে দিয়েছেন।
মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় নাম থাকলেও ভর্তি ও পড়ার খরচ চালিয়ে নেয়ার সংগতি ছিলনা নিপুর পরিবারের। ফলে অর্থ সংকটে ভেস্তে যাচ্ছিল তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। ঠিক সে সময়ে এ সহায়তার হাত বাড়ানো হলো। দৈনিক সমাজের কথায় ‘অনটনের ছায়ায় ঢাকা পড়তে চলেছে মেধাবী নিপুর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সেটি শাহীন চাকলাদারের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি (শাহীন) নিপুকে তার কাছে ডেকে নেন। মেডিকেল কলেজে ভর্তিসহ তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহনসহ চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সবসময় নিপুর পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মেডিকেল কলেজে ভর্তির খরচ পাওয়ার পর নিপু বিশ্বাসের চিকিৎসক হওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল সেটি কেটে গেছে। মুঠোফোনে আলাপচারিতায় মেডিকেল কলেজে ভর্তির ব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য নিপু শাহীন চাকলাদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নিপু জানান, ‘মেডিকেলে ভর্তির খরচ পাওয়ায় তিনি অনেক আনন্দিত। মেডিকেলে ভর্তির পর পড়াশোনার খরচের জন্য শাহীন চাকলাদার তাকে যোগাযোগ রাখতে বলেছেন।’ যশোর সদরের কনেজপুর গ্রামের রণজিৎ বিশ্বাস ও সাগরিকা বিশ্বাসের ছেলে নিপু বিশ্বাস এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর সরকারি এমএম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষায় মোট ১৩শ’ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ৯৮ নম্বর পান তিনি। নিপু এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। যশোর সদরের ডাকাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১২শ’ নম্বরের মধ্যে নিপু পেয়েছিল ১১শ’ ৭৫ নম্বর।
চিকিৎসক হবার স্বপ্ন পূরণে প্রাইভেট পড়ানো আর মানুষের অনুদানের টাকায় দু’একমাস কোচিংও করেন। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হন। খুলনা মেডিকেল কলেজের মেধা তালিকার তার নাম আসে অগ্রভাগেই (১৭৫৩)।
মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন এমন স্বপ্ন বুকে নিয়েই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন নিপু বিশ্বাস। ফলাফল জানার পর আনন্দে আত্মহারা হন নিপু। কিন্তু নিমেষেই সেই সুখানুভূতি হারিয়ে তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে দুশ্চিন্তার ছাপ। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান হলেও দারিদ্রের বাধা অতিক্রম করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়াটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। ফলে স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে থাকে।
ঋষি পরিবারের সন্তান নিপু বিশ্বাসের বাবা রণজিৎ বিশ্বাস বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করে সংসার চালান। প্রতিদিন তার আয় মাত্র ২/৩শ’ টাকা। এই আয়ে পরিবারের ৪ জনের সংসার কোনোরকম চলে।

শেয়ার