চৌগাছায় কলাই চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

অমেদুল ইসলাম, চৌগাছা (যশোর) থেকে ॥ ’চৌগাছার মাটি সোনার চেয়েও খাটি, এ মাটিতে যখন যা ফালানো হয় তা কৃষককে কখনই ঠকায় না’ এই প্রবাদটি উপজেলার ঘরে ঘরে। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ব্যাপক ভাবে কলাই চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষক বেশ লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা করছে কৃষকরা।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোরের চৌগাছা উপজেলার প্রতি ইঞ্চি মাটি সব ধরনের ফসল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। ধান, পাট, ভুট্টার পাশাপাশি বছরের বার মাসই উপজেলাতে কোন না কোন সবজির চাষ হচ্ছে। এসব ফসল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে যাচ্ছে। এ জনপদের কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ক্রয় করার জন্য ক্রেতারা প্রতি দিনই চৌগাছার প্রধান কাঁচা বাজারের আড়ৎগুলো খুলে কৃষকদের সবজির অপেক্ষায় থাকেন। চৌগাছার প্রধান কাঁচা বাজার সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার হলেও এখন সপ্তাহের প্রতি দিনই হাট বসছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, মাটির গুণাগুণ বিবেচনায় উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই কম বেশি কলাই চাষ করা হয়েছে। কলাই চাষের তেমন কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা না হলেও এবছর ৫৭০ হেক্টর জমিতে কলাই চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে মুখ কলায়ের চাষ হয়েছে ৩’শ হেক্টর এবং মাস কলাই চাষ হয়েছে ২৭০ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে গোটা উপজেলায় কলাই চাষ হয়েছিল ৪’শ হেক্টর জমি। সেই তুলনায় এবছর অতিরিক্ত ১৭০ হেক্টর বেশি জমিতে কলাই চাষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া, গুয়াতলি, হাজরাখানা, পেটভরা গ্রামঞ্চলের মাঠে গেলে দেখা যায়, কৃষক কলাই ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সময় কথা হয় কৃষক রমজান আলীর সাথে। তিনি বলেন, কলাই নিঃসন্দেহে একটি লাভজনক ফসল। কলাই চাষের জন্য কৃষককে সেভাবে অর্থ ব্যয় করতে হয় না, এমনকি অন্য ফসলের মত বেশি শ্রমও দিতে হয় না। অল্প খরচে কম পরিশ্রমে কলাই চাষ করা যায়। সে কারনে আমাদের এলাকায় প্রতি বছরই কলাই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই মাঠে কৃষক রমজান আলীর মত আশরাফুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, সামাদুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, বাজেহার আলী, মজনুর রহমান, সাইদুল ইসলাম, ভুলু মিয়া, কেদার আলী, আলম খাঁন কলাই চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, প্রতি বাংলা মাসের ভাদ্র মাসে জমি প্রস্তুত করে কলাই বীজ বপন করা হয়। বীজ থেকে চারা বের হলে কৃষককে কিছুটা ওই জমিতে শ্রম দিতে হয়। এরপর জমির আগাছা মুক্ত করার জন্য দু’একটি নিড়ানি দিতে হয়। এছাড়া পরিমান মত সার ও প্রয়োজন বোধে সেচ দিলেই চলে। অন্য ফসল উৎপাদনের তুলনায় বলাচলে এটি কোন পরিশ্রমই নই। কলাই ক্ষেতে পোকা মাকড়ের আক্রমন তেমন না হওয়ায় কোন কীটনাশক স্প্রে করার দরকার হয় না। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ১ বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত কলাই হয় বলে কৃষকরা জানান। প্রতিমন কলাই ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি করা যায়। কলাই চাষে খরচ কম পরিশ্রমও কম। তাই দিন দিন কৃষক এই চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইচ উদ্দিন বলেন, কলাই অবশ্যই একটি লাভজনক ফসল। কলাই চাষ করে কৃষক লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই কলাই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অঞ্চলে মুলত মাস ও মুখ এই দুই জাতের কলাই চাষ হয়। মাস কলাই বারী -৩ জাত ও মুখ কলাই বারী ৩,৪ ও ৬ জাতের চাষ বেশি লক্ষনীয়। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের আরও বেশি বেশি ফসল উৎপাদনে উৎসাহ যোগানোর পাশাপাশি কৃষকের সব ধরনের সমস্যা নিরাসনে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।