যশোরে কলেজছাত্র সোহাগ খুন
ফুলুর নেতৃত্বে আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর, আরেকজনের গ্রেপ্তার গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হয় যশোরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভাগ্নে শরিফুল ইসলাম জিতুর। কিন্তু জামিনে মুক্ত সেই জিতু গত ২০ অক্টোবর সোহানুর রহমান নামে এক কলেজছাত্রকে গলাকেটে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের এমন অভিযোগ থাকলেও সোহানুর হত্যা মামলায় জিতুকে আসামি করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি এখন নিজের পক্ষে নিতে মামলার অন্যতম আসামি রাকিবের বাড়ি ও দোকানে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা করিয়েছে জিতু। গত বুধবার রাতে সন্ত্রাসী হারুনার রশিদ ফুলু ও যুবদল নেতা সোহরাব হোসেন ছোটর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, গতকাল এ মামলার আরেক আসামি কুরবানকে নড়াইল থেকে আটক করা হয়েছে। কুরবান শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়া আমতলা নদীর পাড় এলাকার আব্দুল কাদের ওরফে ভাংড়ি কাদেরের ছেলে। তবে পুলিশ তাকে আটকের বিষয়টি এখনো স্বীকার করেনি।
স্থানীয় সূত্র মতে, যশোর শহরের বারান্দীপাড়া আমতলা এলাকার পরিবহন চালক হাবিবুর রহমান হবির ছেলে সোহানুর রহমান সোহাগ ওরফে মাইকেল সদর উপজেলার হামিদপুর আল হেরা ডিগ্রি কলেজে লেখাপড়া করতো। গত ২০ অক্টোবর রাতে তার বন্ধু রায়হান মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে জিতু ও রাকিব উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। রাতেই তাকে মালোপাড়া নদীর পাড়ে নিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে গলা কেটে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর ঘাসের মধ্যে মাইকেলের লাশ ফেলে দেয়। পরদিন স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু এরই মধ্যে সন্ত্রাসী জিতু, রাকিব, রায়হান ও কুরবানসহ এঘটনায় জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এঘটনায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ফলে জিতুকে রক্ষা করতে মাঠে নামে এলাকার আরেক সন্ত্রাসী হারুনার রশিদ ফুলুসহ জিতুর অনুসারীরা। যে কারণে ঘটনার পরদিন নিহত সোহানের পিতা হাবিবুর রহমানের মোবাইল ফোনে জিতুর মামা শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিচুর রহমান ফিঙে লিটন ফোন করে জিতুকে এ মামলা থেকে বাদ দিতে বলে। এমনকি জিতুকে আসামি করা হলে সোহানের আরেক ভাইকেও খুন করা হতে পারে এমন হুমকি দেয়া হয়। ফলে পরিবারের অন্যদের জীবন রক্ষায় সেই ফুলুকে সাথে নিয়ে থানায় যান নিহতের ভাই মিলন। আর বাদ দেয়া হয় ওই হত্যা মামলা থেকে জিতুকে।
এদিকে বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে গত বুধবার গভীর রাতে হারুনার রশিদ ফুলুর নেতৃত্বে এক নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ প্রচার সম্পাদক সোহরাব হোসেন ছোটসহ ২০/১৫ সন্ত্রাসী এ মামলার আসামি রাকিবের বাড়িতে যায়। ওই সন্ত্রাসীরা রাকিবের পিতা সিদ্দিকের বাড়ি ও দোকান ভাংচুর করে। দোকানে থাকা মালামাল লুটপাট করে ওই সন্ত্রাসীরা।
শুধু তাই নয় ওই সন্ত্রাসী এ মামলার আরেক আসামি কুরবানের মা ও বোন রেশমাকে মারপিট করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বৃহস্পতিবার মা মেয়েকে পুলিশ বাড়িতে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এ মামলার আসামি কুরবানকে পুলিশ নড়াইল থেকে আটক রেছে বলে তার পরিবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছে। যদিও কুরবানকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুজ্জামান।

শেয়ার