যশোরে ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র খুন

‘বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ফিঙে লিটনের ভাগনে জিতুসহ বন্ধুরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে সোহানুর রহমান সোহাগ ওরফে মাইকেল (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছেন। সোমবার দুপুরে শহরের বারান্দী মালোপাড়া এলাকার ভৈরব নদের পাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সোহাগ বারান্দী মোল্যাপাড়া আমতলা এলাকার হাবিবুর রহমান হাবিবের ছেলে ও হামিদপুর আল-হেরা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রোববার রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভাগ্নে জিতু, বন্ধু রায়হান ও রাকিব মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তাকে খুন করেছে বলে নিহতের মা কোহিনুর বেগম দাবি করেছেন।
সোহাগের মা কোহিনুর বেগম জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরের দিকে একই এলাকার নীলা রাণী নামে এক নারী বারান্দী মালোপাড়া এলাকায় ভৈরব নদের পাড়ে ঘাস কাটতে যান। এ সময় তিনি ঘাসের মধ্যে একটি মৃতদেহ পড়তে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার এবং পরিচয় সনাক্ত করে। নিহতের শরীরে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর লাশ নদীর পাড়ে ঘাসের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে।
নিহতের পিতা হাবিবুর রহমান হাবিব জানিয়েছেন, তিনি শ্যামলী পরিবহনের চালক। তার বড় ছেলেও একজন চালক। সোহাগ হামিদপুর আল হেরা ডিগ্রি কলেজে লেখাপড়া করে। কিন্তু সঙ্গদোষে সে কিছুটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ইয়াবা সেবন করতো বলে শুনেছি। তাকে ভাল করার জন্য সেফ কস্টোডিতে (নিরাপদ হেফাজত) রাখার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু চারমাস পর তার পরীক্ষার কারণে নিরাপদ হেফাজতে দেয়া হয়নি। সোমবার সকালে স্থানীয়দের কাছে তার লাশ পড়ে আছে বলে খবর পেয়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখি। দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে সোহাগ ছোট।
তিনি আরো জানিয়েছেন, সোহাগের কাছে দুইটি মোবাইল ফোনসেট ছিল। মোবাইল সেট দুইটি পাওয়া যায়নি। মোবাইল দুইটি উদ্ধার করতে পারলে খুনিদের সানাক্ত করা যাবে।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের আপন ভাগ্নে ও পৌর এক নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরা’র দুই ছেলে সেতু ও জিতু চিহ্নিত সন্ত্রাসী। হত্যা, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক কেনাবেচা থেকে শুরু করে ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে তারা যুক্ত। চলতি বছরের ১৪ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বারান্দীপাড়া বিসিএমসির গলির ভেতরে বোমা তৈরিকালে একটি বোমার বিস্ফোরণে আহত হয় জিতু। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। বেশ কিছুদিন সে কারাগারে আটক ছিল। ৪/৫দিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে থাকে। সোহাগ হত্যার পেছনে তার হাতে থাকতে পারে।
এছাড়া গত শনিবার রাতে মোল্যাপাড়া আমতলা মোড়ে সিরাজুল ইসলাম সিরার সাথে পূর্ব বিরোধ নিয়ে একটি গোলমাল হয়। কিন্তু কার সাথে বিরোধ তা জানাতে পারেনি সূত্রটি। ওই ঘটনায় সোহাগ হত্যার পেছনে দায়ী হতে পারে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেছেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন রয়েছে। পেটে ও বুকে একাধিক আঘাতে ক্ষত রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। কারা কি কারণে তাকে হত্যা করেছে তা উদঘাটনের জন্য কাজ করছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে সন্দিগ্ধদের আটকের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার