ধারের টাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলো মেহেদি

পড়ালেখার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার

মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর
ধারের টাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলো অদম্য মেহেদি হাসান। সোমবার শুরু হওয়া ভর্তি কার্যক্রমের প্রথম দিনই ভর্তি হতে বাবাকে নিয়ে ঢাকায় যায় মেহেদি। প্রতিবেশিদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে মেডিকেলে লেখাপড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন মেহেদির পরিবার। মেহেদি চলতি শিক্ষা বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেধা তালিকায় ১৫তম স্থান অধিকার করেছে। মেহেদি হাসান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নিভৃতপল্লী হুরগাতি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।
হুরগাতি গ্রামের জরাজীর্ণ মাটির ঘরে লেখাপড়া করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় মেহেদির মায়ের চোখে আনন্দের অশ্রু। সেই সাথে রয়েছে শঙ্কার ছাপও। মেহেদির মা রাবেয়া বেগম জানালেন, প্রতিবেশি ৩ জনের কাছ থেকে ধার করা ১২ হাজার টাকা নিয়ে রোববার রাতে বাবার সাথে ভর্তি হতে গেছে মেহেদি। মেহেদির বাবার হাড়ভাঙ্গা খাটুনির উপার্জনে কোনো রকমে তাদের সংসার চলে। এরপরও কষ্টেসৃষ্টে তারা লেখাপড়ার খরচ জুড়িয়েছেন। এখন মেডিকেলের লেখাপড়া কিভাবে চলবে জানেন না তারা।
মেহেদির চাচা আব্দুর রশিদ বলেন, গ্রামেই রাস্তার মোড়ে সার-কীটনাশকের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম। মেহেদির বড় বোন নূরজাহান খাতুন পিয়া যশোর এমএম কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স শেষ করেছে। রহিমের একার রোজগারেই চলে ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অদম্য মেধাবী মেহেদি হাসানের ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ ছিল। বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিলো মেহেদি বড় ডাক্তার হয়ে সমাজ তথা দেশের মানুষের সেবা করবে। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া মেহেদি আর ১০জন মেধাবীর মত অর্থাভাবে ভাল শিক্ষক কিংবা কোচিং করার সুযোগ পায়নি। কিন্তু তাতে দমেনি মেহেদি। বা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ ও নিজের ইচ্ছা শক্তি নিয়ে এইচএসসি পাশ করে মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে দিন-রাত পড়া-লেখায় ডুবে থেকেছে। এতে ফল পেয়েছে মেহেদি। ভবিষ্যতে নির্বিঘ্নে পড়ালেখা চালিয়ে বড় ডাক্তার হয়ে সমাজ তথা দেশের অবহেলিত মানুষের সেবা করতে চায় মেহেদি। এজন্য সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করেছে মেহেদি।
মেহেদির বাবা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, সোমবার ১০ হাজার ২শ’ টাকা জমা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে মেহেদি। ছেলের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

শেয়ার