কয়রায় মামলার বাদীকে মারপিট করে পুলিশে সোপর্দ করলেন আসামীরা !

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি॥ খুলনার কয়রায় মামলার বাদিকে মারপিট করে পুলিশে সোপর্দ করেছে আসামী পক্ষ। মামলার বাদী আহত মাছুদুল সরদার (৩৫) বর্তমানে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার ৫ নং কয়রা গ্রামে। এলাকাবাসি, পুলিশ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানাযায়, ১৯ অক্টোবর রাতে মামলার বাদী মাছুদুল তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে দেখা করে কয়রা থেকে বাড়ী ফেরার পথে ৫নং কয়রা গাজীবাড়ীর মোড়ে পৌছালে মামলার আসামী আক্তারুল, সাগর ও সাত্তার গাইনের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি দল তাকে বেধড়ক মারপিট করে একটি ঘরে আটক রাখে। পরে জনৈক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নির্দেশে ভুক্তভোগীকে কাশিয়াবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে পর দিন সকালে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মুক্ত হয়ে আহত মাছুদুল প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয় পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আহত মাছুদুল সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত পূর্বশত্র“তার জেরধরে গত কয়েকদিন আগে ৫নং কয়রা গ্রামের শাহাজান গাজীর নেতৃত্বে ভুক্তভোগি মাছুদুলের ছেলে শহিদুল কে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। এ ব্যাপারে শহিদুলের পিতা মাছুদুল বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামী করে গত ১৫ অক্টোবর কয়রা সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কয়রা থানাকে এফ আই আর হিসাবে গ্রহনের নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক ঘটনার রাতে কয়রা থানা পুলিশ ওই মামলার দুইজন আসামীকে আটক করলে আসামীপক্ষ ক্ষীপ্ত হয়ে মামলার বাদিকে বেধড়ক মারপিটে জখম করে পরে প্রভাব খাটিয়ে মামলার বাদিকে পুলিশে সোপর্দ করে। এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কাশিয়াবাদ পুলিশফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই টিপু সুলতান বলেন, ঐ রাতে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাসুদুল কে ফাড়িতে পাঠায়। সকালে আমি তার অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর করি। এছাড়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়রা থানার এস.আই আবু সায়েম বলেন, ঐ রাতে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আমার এক মামলার বাদীকে কে বা কারা মারপিট করে পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেছে। তিনি আরও জানান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ঔষধ সেবন করিয়েছেন এবং সকালে তার স্বজনদের নিকট হস্থান্তর করেছেন।

শেয়ার