মণিরামপুরে টেন্ডার ছাড়াই সড়কের শতাধিক গাছের বড় বড় ডাল কেটে সাবাড়

মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর ও রবিউল ইসলাম, রাজগঞ্জ ॥ কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যশোর পুলেরহাট-সাতক্ষীরা সড়কের (মণিরামপুর উপজেলার খোদাপাড়া ইউনিয়ন অংশ) দুই পাশের গাছের বড় ডাল ও গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয় আব্দুল আজিজ ও আমিন নামের দুই আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে চলছে এ ডাল কাটার মহোৎসব। অবশ্য দুই নেতা দাবি করেছেন সড়কে যানবাহন চলাচলে সুবিধার্থে যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মৌখিক নির্দেশে তারা কেবল দৈনিক হাজিরা মজুরির শর্তে এ গাছের ডাল কাটাচ্ছেন। যদিও স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্যকেও এ ব্যাপারে জানানো হয়নি।
সরেজমিন শনিবার বেলা দেড়টার দিকে সড়কের বড় রেইন্ট্রি গাছের প্রায় সব ডাল কেটে ফেলার কারণ জানতে চাইলে কর্মরত শ্রমিক সিদ্দিকুর রহমান, শহীদসহ কয়েকজন দাবি করেন, তারা কেবল মজুরি হিসেবে কাজ করছেন। আসল কারণ জানতে সামনে গিয়ে আব্দুল আজিজ ও আমিনের সাথে কথা বলতে বলেন। এভাবে শতাধিক গাছের ডাল ও গাছ কাটার চিত্র চোখে পড়ে।
সড়ক ধরে এগিয়ে যেতেই আরো ৬/৭ জন শ্রমিকের ডাল কাটার চিত্র চোখে পড়ে। লাল পতাকা হাতে দাঁড়ানো আব্দুল আজিজ ও আমিনুর রহমান নিজেদের আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, জনগণসহ যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পিকুল ভাইয়ের (সাইফুজ্জামান পিকুল) মৌখিক নির্দেশনা পেয়েই ডাল কাটা হচ্ছে। বিনিময়ে তাদেরকে মজুরি দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন।
স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম গাছের ডাল কাটার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না দাবি করে জানান, টেন্ডার ছাড়া গাছের পাতা কাটারও নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদে কোন মিটিংও হয়নি।
একটু পরেই সেখানে উপস্থিত মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান জানান, সড়কের জায়গা জেলা প্রশাসকের অধীন খাস খতিয়ানভূক্ত। কোনভাবেই জেলা পরিষদ গাছ কাটার নির্দেশনা দিতে পারেন না।
তবে, কিছু মরা (শুকনো) গাছ কেটে ফেলার জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা থাকলেও তা প্রক্রিয়াধীন করেই করার কথা। কিন্তু কোন জীবিত গাছের পাতা কাটারও নির্দেশনা ছিল না।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল জানান, স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বল্প সংখ্যক গাছের ডাল কাটার জন্য বলা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে দেয়া হলে সব গাছ কেটে ফেলা হতে পারে এ আশংকায় এভাবে কাটা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের নির্বাহী এটিএম রফিকুন্নবী বলেন, ডাল কাটতে সীমা লংঘন করা হলে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
এরই মধ্যে সেখানে খবর আসে ভ্যানযোগে বড় আকারের কয়েকটি লগ (ডাল) আমিনের বাড়ি নেয়া হয়েছে। খবর শুনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের তহশিলদার নিছার উদ্দীন ভ্যানসহ লগ ফিরিয়ে আনেন।
ভ্যান চালক শহীদ জানান, আমিনের নির্দেশে বড় আকৃতির কয়েকটি ডাল তার (আমিন) বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

শেয়ার