মণিরামপুর বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতুকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা

মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর॥ যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতুকে কেন্দ্র করে বিপুল দর্শনার্থীর ভীড় পর্যটন শিল্পের নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে। পর্যটন মন্ত্রণালয় ভাসমান সেতুটিকে পর্যটন মন্ত্রালয়ের অধীনে নিয়ে পর্যটন শিল্পে উন্নীত করলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মান্ডের নব দিগন্তের সূচনা ঘটতে পারে। পাল্টে যেতে পারে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-মান। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইতোমধ্যে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে উদ্যোগে এলাকাটি আরো দর্শনার্থীর দৃষ্টি কাড়তে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দর্শনার্থীদের সময় কাটাতে ভাসমান সেতু সংলগ্ন ঝাঁপা বাওড়ের তীরে পায়ে চলা পথ ও বসার জায়গা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের দেড়শ’ জন সদস্য’র সমন্বয়ে ঝাঁপা উন্নয়ন সম্মিলিত ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতু নির্মাণ করেন।
সংগঠনের দায়িত্বশীল ওয়াদুদ বলেন, জয়নাল আবেদিন নামের একজন মিস্ত্রি ১১ জন সহযোগী নিয়ে ৬ মাসের প্রচেষ্টায় লোহার শিট, লোহার এ্যাঙ্গেল, পাতি ও ১২শ’৪০ ড্রাম দিয়ে এ সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। ঝাঁপা বাঁওড়ের জলরাশির দুই তীরের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য যে কারো মনকে কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রশান্তি এনে দিতে পারে। তার ওপর নির্মিত দেশের বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতু মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্যের পাটভূমিকে আরো জাগ্রত করেছে।
স্থানীয় প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষক তুষারসহ অনেকেই বলেন, এলাকাটি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে এটিকে আরো আকর্ষনীয় করে তোলা হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হবে। এতে এলাকা তথা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, আকর্ষনীয় করতে সেতু সংলগ্ন স্কুলের নিচ থেকে শ্মশান ঘাট পর্যন্ত বাওড়ের উভয় পাশে চলাচলের রাস্তা ও বাওড়ের পানির ওপর বসার জায়গা নির্মাণসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। গত জুন মাসে সরেজমিন পরিমাপ করে একটি বাজেট করা হয়। কিন্তু বিশাল বাজেট থাকায় তা পর্যটন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতুকে কেন্দ্র করে ঝাপা বাওড় সংলগ্ন এলাকাটি পর্যটন শিল্পের জন্য বিরাট সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার