আজ ‘চাঁদসওদাগর’ ও ‘ফিরে পাওয়া’ মঞ্চায়ন
‘চম্পাবতী’র পরতে পরতে ফুটে ওঠে নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বেদে সম্প্রদায়কে নিয়ে নাটক ‘বেদের মেয়ে’ লেখেন পল্লী কবি জসিম উদ্দীন। নাটকটি নিয়ে গীতিনাট্য ‘চম্পাবতী’ রচনা করেন আরেক খ্যাতিমান লেখক সৈয়দ শামসুল হক। বিবর্তন যশোরের আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গীতি নাট্যটি মঞ্চস্থ করে ভারতের বহরমপুরের নাট্যদল ঋত্বিক। এদিকে আজ শুক্রবার পর পর দুটি নাটক ‘চাঁদসওদাগর’ ও ‘ফিরে পাওয়া’ মঞ্চায়নের ভেতর দিয়ে সাত দিনের নাট্যোসবের পর্দা নামছে। এদিনকার নাটক দুটিও পরিবেশন করবে ভারত থেকে আসা দুটি নাট্যদল।
গতকাল মঞ্চায়িত গীতি নাটক ‘চম্পাবতী’র দৃশ্যায়নের প্রতিটি পরতে পরতে ফুটে ওঠে নারীর প্রতি পুরুষ শাসিত সমাজের লোলুপ দৃষ্টি। নাটকটির দৃশ্যপটগুলো বলে দেয় পুরুষের চোখে নারী শুধুই দেহসর্বস্ব ভোগের বস্তু। এ নাটকের গল্পে গ্রামের স্বার্থান্বেষী মোড়লের নজরে পড়ে গয়্যা বাইদ্যার সুন্দরী স্ত্রী বেদেকন্যা চম্পাবতী। এক পর্যায়ে গয়্যা বাইদ্যার সুন্দর সংসার রেখে তাকে বন্দি হতে হয় নারীলোভী মোড়লের হাতে। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয় সে। কিন্তু নিজের ভালবাসার মানুষ গয়্যা বাইদ্যাকে কিছুতেই ভুলতে পারে না চম্পাবতী। কিন্তু নাটকের এমন একটি পর্যায় আসে যখন বাইদ্যার জীবন বাঁচাতে চম্পাবতী নিজের শরীরে শুষে নেয় সে মৃত্যুর নীল বিষ। আর এভাবেই এগিয়ে চলে নাটকের গল্প।
দ্রোহ, প্রেম ও ঐতিহ্যের স্বপ্নযাত্রায় এমন শ্লোগানে গত ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় এ নাট্যোৎসব। ইতিমধ্যে এতে ভারতের দুটি দল ও আয়োজক নাট্য সংগঠন বিবর্তন যশোরসহ বাংলাদেশের ৩টি সনামধন্য নাট্যদল তাদের নাটক মঞ্চস্থ করেছে। উৎসবকে ঘিরে যশোরে নাট্যপ্রেমীদের মিলনমেলা বসেছে।
উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু জানান, বিবর্তন যশোর গত ১২ অক্টোবর ৩০ বছরে পা দিয়েছে। তিন দশকে পদার্পণ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে বিবর্তন দুই বার আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবের আয়োজন করে। এবার তৃতীয়বারের মতো বির্বতনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিবর্তনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উৎসবের অনুষ্ঠান উপ কমিটির আহ্বায়ক এইচ আর তুহিন জানান, কলকাতার টালিউডপাড়ার অঞ্জনা বসু, বিপ্লব বন্দ্যোপাধায়, দেবশঙ্কর হালদার ও চৈতী ঘোষালের মত জনপ্রিয় অভিনেতা যশোরের নাট্যমঞ্চ মাতিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা অনন্ত হীরা, রমিজ রাজু, নুনা আফরোজ ও লিয়াকত আলী লাকীদের অভিনয়ও দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
আজ ১৮ অক্টোবর সমাপনী দিনে পরপর দুইটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রথমে মঞ্চস্থ হবে কোলকাতার অঙ্গন বেলঘরিয়ার নাটক ‘ফিরে পাওয়া’। যার নাট্যকার বেবি সেনগুপ্ত। আলোক পরিকল্পনা ও নিদের্শনা দিয়েছেন অভি সেনগুপ্ত। এরপর মঞ্চে আসবে পশ্চিমবঙ্গের ‘যুগের যাত্রী চন্দননগর’র নাটক ‘চাঁদসওদাগর’। শঙ্কর বসু ঠাকুরের রচনায় রামকৃষ্ণ ম-ল এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন।

শেয়ার