অনটনের ছায়ায় ঢাকা পড়তে চলেছে মেধাবী নিপুর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অনটনের ছায়ায় ঢাকা পড়তে চলেছে মেধাবী নিপু বিশ্বাসের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। অদম্য মেধা নিয়ে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় থাকলেও পড়তে পারবেন কিনা; তা নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই।
যশোর সদরের কনেজপুর গ্রামে রণজিৎ বিশ্বাস ও সাগরিকা বিশ্বাসের ছেলে নিপু বিশ্বাস এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। মোট ১৩শ’ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ৯৮ নিয়ে জিপিএ-৫ পান তিনি। চিকিৎসক হবার ব্রত বাস্তবায়নে প্রাইভেট পড়ানো আর আর মানুষের অনুদানের টাকায় দু’একমাস কোচিংও করেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছেন তিনি। খুলনা মেডিকেল কলেজের মেধাতালিকার তার নাম এসেছে অগ্রভাগেই। মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হবেন। তারপর ব্রত হবেন মানুষের সেবায়Ñএমন স্বপ্ন বুকে নিয়েই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন নিপু বিশ্বাস।
মঙ্গলবার রাতে ফলাফল জানার পর আনন্দে আত্মহারা হন নিপু। কিন্তু নিমেষেই সেই সুখানুভূতি হারিয়ে তার চোখেমুখে ফুঁটে ওঠে দুশ্চিন্তার ছাপ। কারণ ভর্তিপরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান হলেও দারিদ্র্যের বাঁধা অতিক্রম করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়াটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে তার।
ঋষি পরিবারের সন্তান নিপু বিশ্বাসের বাবা রণজিৎ বিশ্বাস বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করে সংসার চালান। প্রতিদিন তার আয় মাত্র ২/৩শ’ টাকা। এই আয়ে পরিবারের ৪ জনের সংসার কোন রকম চলে।
নিপু বংশ পরম্পরার সেই পেশা গ্রহণ করতে চান না; চান ডাক্তার হতে। কিন্তু তার পিতা রণজিৎ বিশ্বাস বলেন, ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে এতে খুশি। কিন্তু আর্থিক অনটনের সংসার। অনেক কষ্টে ছেলেকে এতদূর এনেছেন। মেডিকেলে ভর্তি করাসহ পড়াশুনার ব্যয় বহনের মত সঙ্গতি তার নেই। তাই কিভাবে ছেলে ভর্তির টাকার যোগান হবে তা নিয়ে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি।
নিপুর মা সাগরিকা বিশ্বাস বলেন, তাদের মাঠে কোন জমি নেই। শুধু ভিটে টুকু আছে। স্বামী বাঁশের ঝুড়ি বুনে বাজারে বিক্রি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোন রকম সংসার চালান। এখন নিপু কিভাবে ডাক্তারি পড়বে তা তারা ভাবতে পারছেন না।
সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা ছাড়া অদম্য মেধাবি নিপুর ডাক্তারি ভর্তি অসম্ভব বলে জানান তার মা-বাবা।
নিপু এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। যশোর সদরের ডাকাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ওই পরীক্ষায় ১২শ’ নম্বরের মধ্যে নিপু পেয়েছিল ১১শ’ ৭৫ নম্বর।
ডাকাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হেলেনা আকতার বলেন, নিপুদের অভারের সংসার। আমাদের স্কুলে সে যখন পড়তো, তাকে তখন বিনামূল্যে আমরা খাতা কলম এবং অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করেছি। সে এইচএসসি পরীক্ষায়ও ভালো রেজাল্ট করেছে। কিন্তু পরিবারের দারিদ্রতার কারণে তার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

শেয়ার