রায়পাড়ায় আবারো সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের ‘মাদকপল্লী খ্যাত’ রায়পাড়া এলাকায় আবারো ইয়াবা বাণিজ্যকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রায় আড়াই বছর এই এলাকায় মাদকের বেচাকেনা কমে গেলেও ফের তা বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। রায়পাড়া, রেলগেটসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩০ জন মাদক বিক্রেতা ফের সক্রিয় হতে শুরু করেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে মাদকের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যশোর শহরের রায়পাড়া, রেলগেট, তুলোতলা এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে এই এলাকা পরিচিত ছিল চোরাইপথে আসা ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, চাদরসহ বিভিন্ন পণ্যের মার্কেট হিসেবে। পরবর্তীতে হেরোইন ও ফেনসিডিলের আখড়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করে রায়পাড়া। একপর্যায়ে মাদকপল্লী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ওঠে এই এলাকাটি।
২০১৬ সালের শেষদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় রায়পাড়ায় মাদকের বেচাকেনা বেশ খানিকটা কমে যায়। ২০১৭ সালের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলা কমিটি এই এলাকার বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। শীর্ষ মাদক বিক্রেতা বেবীর ৪টি বাড়ি, শিলি বেগমের একটি বাড়ি ভাঙ্গা পড়ে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও চাপের মুখে ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ যশোরের ৮৬৬ জন মাদক বিক্রেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেন। এরপর থেকে এই এলাকায় মাদকের বেচাকেনা বেশ কমে যায়। কিন্তু সম্প্রতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রায়পাড়া-রেলগেট এলাকায় এখন অন্তত ৩০ জন মাদক বিক্রেতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এরা এখন ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির তৎপরতা শুরু করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে, রায়পাড়া কয়লাপট্টি এলাকার সোহেল মহুরির বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুর রহিম ওরফে মুরগি রহিম, রহিমের বউ দুলারী, সোহরাব হোসেন ছোট’র স্ত্রী শিলি বেগম, মজিবরের স্ত্রী মোটা জহুরা ও তার ছেলে রানা, করিমের ছেলে সবুজ ও মিন্টু, মিন্টুর স্ত্রী সীমা, মাদ্রাসা রোড এলাকার আম বাবুর ছেলে আব্দুর রশিদ, ইসরাফিলের ছেলে সজল, লিয়াকতের ছেলে রহমান, টাক জালালের ছেলে লাডল, বাদশার স্ত্রী রাণী, চান গাজীর স্ত্রী বেবী খাতুন, ডালিম, আসমা, মড়া, নাহার, রেলগেট পশ্চিম পাড়ার আনু ও শিউলি।
সূত্র মতে, মাদক বিক্রেতা রহিম পুলিশের সোর্স পরিচয়ে নকল ইয়াবা তৈরি করে বিক্রি করছে। শিলি বেগম, বেবী, আনু, শিউলি ইয়াবার বড় বড় চালান নিয়ন্ত্রণ করে। আর জোহুরা, রানা, আসমা, মড়া, নাহার ইয়াবার পাইকারি বিক্রেতা। এদের মাধ্যমেই খুচরা বিক্রেতারাুু ইয়াবাসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে।
তবে মাদক ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা করলেও বসে নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শীর্ষ মাদক বিক্রেতা বেবী খাতুন এলাকায় ফিরে ব্যবসা শুরু করায় আবারও আটক হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর পুলিশের অভিযানে আরও ৪ মাদক বিক্রেতার সাথে বেবী আটক হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর ধরা পড়েছে ইয়াবা বিক্রেতা রশিদ। এছাড়াও এরই মধ্যে আটক হয়েছে মিন্টু ও শিউলি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, রায়পাড়া, রেলগেট এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ মাদকসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী বেবী খাতুন, ডালিমসহ আরও কয়েকজন আটক হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই উল্লেখ করে ওসি আরও বলেন, যেই মাদক ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করবে, পুলিশের জালে তাকে ধরা পড়তেই হবে।

শেয়ার