সারাদেশের মধ্যে প্রথম
যশোর বোর্ডে শুরু হলো ‘প্রশ্নব্যাংকের’ মাধ্যমে নির্বাচনী পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় বসতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের ‘প্রশ্নব্যাংকের’ মাধ্যমে নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন শ্রেণির সাময়িক পরীক্ষা এই প্রশ্নব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া হলেও প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ করছে শিক্ষাবোর্ড।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, যশোর শিক্ষাবোর্ডর অধীনে দুই হাজার ৮০০ বিদ্যালয়ের প্রায় এক লক্ষ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী বতমানে দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। যারা আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষীয় অংশ নেবে। তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ে গতকাল থেকে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবারই প্রথম প্রশ্নব্যাংকের মাধ্যমে সব শিক্ষার্থীদের একসাথে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বোর্ডের প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়ার অভ্যাস করতে যশোর বোর্ডের নিজস্ব প্রশ্নে (অনলাইন প্রশ্ন ব্যাংক) মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো ১৯ টা বিষয়ে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা এই পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে এ পদ্ধতিকে শিক্ষকরা সাধুবাদ জানালেও, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। অনলাইন থেকে প্রশ্ন ডাউনলোড ও ফটোকপি করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা শুরু না হওয়ারও কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধানরা।
গতকাল যশোর জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাশরুক জামান অপু বলে, প্রশ্নব্যাংকের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে অনেক ভালো লাগছে। এসএসসি পরীক্ষার আগে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বোর্ডের প্রশ্নে অভ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা হয়েছে। বোর্ড প্রশ্ন করায় শ্রেণিশিক্ষকের পড়ানোর বাইরে কয়েকটি প্রশ্ন এসেছে।
যশোর মিউনিসিপ্যাল বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত বিশ্বাসের কাছে প্রশ্নব্যাংকের বিষয়ে জানতে চাইলে বলে, প্রশ্ন ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হচ্ছে। বহুনির্বাচনী ও নৈবেক্তিক প্রশ্ন অনেকটাই কঠিন হয়েছে। যা সিলেবাসের বাইরে।
এ বিষয়ে যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ কেএম গোলাম আযম বলেন, শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী বোর্ডের প্রশ্নব্যাংক থেকে প্রশ্ন ডাউনলোড করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি বেশ কষ্টস্বাধ। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রশ্নব্যাংক থেকে প্রশ্ন নামিয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ফটোকপি করে পরীক্ষা শুরু করতে হচ্ছে। যা অত্যন্ত জটিল। অনেক সময় ফটোকপি মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। তখন সঠিক সময়ে পরীক্ষা নেওয়া যায় না। অনেক গ্রামে বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে ফটোকপি নেই। সেখানে বোর্ডের অনলাইন প্রশ্নব্যাংক থেকে প্রশ্ন্ নামিয়ে ফটোকপি করে পরীক্ষা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। বাইরে থেকে ফটোকপি করলে প্রশ্নফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুন্দ্র বলেন, বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো যশোর বোর্ডের অধিনে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন প্রশ্ন ব্যাংকের মাধ্যমে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৮টায় বোর্ডের অনলাইন প্রশ্ন আপলোড করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রশ্ন ডাউনলোড করে শিক্ষকরা পরীক্ষা গ্রহণ করছেন। তবে কিছু ু বিদ্যালয়ে সমস্যা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি শিক্ষক অভিভাবক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সহায়তায় প্রযুক্তিগত সমাধারণ করতে হবে।

শেয়ার