তৃতীয় দিনে মঞ্চস্থ সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক ‘ঈর্ষা’

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নিকষ কালো আঁধার মঞ্চ জুড়ে। স্টেজ লাইটের আলোয় ক্রমে আঁধার কাটতে লাগলে দৃশ্যমান হতে লাগল কোর্ট প্যান্ট পরিহিত কাঁচাপাকা চুলের সৌম্য দর্শন এক পুরুষ। আর চেয়ারে গাঢ় লাল শাড়িতে এক রমনী। মঞ্চ আলোকিত হলে শুরু হয় তাদের কথোপথন। দুই চিত্রশিল্পীর ভালোবাসার সম্পর্কের ভাঙনের কথোপকথন। বিচ্ছেদের গ্লানিময় মুহূর্তে প্রেমিকের চোখে প্রেমিকা হয়ে ওঠে প্রতারক। আর প্রেমিকার চোখে প্রেমিক একজন লুন্ঠনকারী। গোটা নাটক জুড়ে চলে থাকতে প্রেমিক প্রেমিকার বোঝাপড়ার আখ্যান।
সোমবার বিবর্তন যশোর আয়োজিত আন্তজার্তিক নাট্যোৎসবের তৃতীয় দিন। উৎসব ভেন্যু জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এদিন সব্যসাচি লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক ‘ঈর্ষা’ মঞ্চায়িত হয়। পুরো নাটকটি সংলাপ ছিল মাত্র ৭টি। চরিত্র ৩টি। নাটকের ব্যাপ্তি ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট। নাটকটির সবচেয়ে বড় সংলাপের ব্যাপ্তি ২৬ মিনিট। সবচেয়ে ছোট সংলাপটি ১২ মিনিটের। এতে অভিনয় করেন নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু ও অনন্ত হিরা।
গতকালকের নাটকটির মঞ্চায়ন করে ঢাকার নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর। সৈয়দ শামসুল হক রচিত এই নাটকটির নির্দেশক অনন্ত হিরা। নাটকটির মঞ্চ সজ্জায় ছিলেন শাহীনুর রহমান, আলোয় জিল্লুর রহমান, সংগীতে রামিজ রাজু ও পোশাকে নূনা আফরোজ।
ঈর্ষা’র কথা: প্রেমিকের হৃদয় যদি পোড়েতো একমাত্র ঈর্ষার আগুনেই পোড়ে। ঈর্ষায় পোড়েনি যে প্রেম তা হৃদয়ে ধরেনি। ঈর্ষা এক ঠান্ডা নীল আগুন। ‘ঈর্ষা’ নামের কাব্যনাটকের গল্প এতোটাই জীবন থেকে জীবনে বিস্তৃত আর দ্বন্দ্ব সংঘাতে মুখর যা বর্ণনাতীত। সেই সঙ্গে আছে আবার শিল্পের সঙ্গে শিল্পের দ্বন্দ্ব। আছে শিল্পীর সাথে শিল্পীর দ্বন্দ্বও। আছে মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর প্রেম, ভালোবাসা; আছে মানব জীবনের আরেক অপরিহার্য এবং অত্যন্ত গোপন বিষয় শারিরীক সম্পর্ক বা যৌনতার কথা। আছে রূপসী বাংলার, শ্যামল উজ্জ্বল, রূপশালী গর্ভবতী ধানের বাংলার রূপের বর্ণনা, আছে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধও। সব মিলিয়ে জীবন ও জীবন উত্তীর্ণ শিল্পের নানা প্রসঙ্গের এতো এতো বিষয় যেটিÑ ‘শিল্পের তুলনায় জীবন বড়ই ক্ষণস্থায়ী’। ‘প্রেম যদি প্রতারণা করে শিল্প দেবে আমাকে আশ্রয় আমার শিল্পের হাত কেঁড়ে নেয় আছে সাধ্য কার?’

শেয়ার