খুলনা বিভাগে ৫ হাজার কোটি টাকার এসএমই ঋণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের নারী উদ্যোক্তা মুসলিমা খাতুন মশলা উৎপাদন করে বাজারজাত করেন। ঋণ পাবার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে ধরণা দিয়েছেন; কিন্তু নানা প্রতিবদ্ধকতা দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ দেয়নি। সোমবার বিকালে একটি অভিজাত হোটেলে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড আয়োজিত নারী উদ্যোক্তা-ব্যাংকার মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নারী উদ্যোক্তা তনুজা রহমান মায়া ও লতিফা রুপা জানান, ঋণ পাবার জন্য কর্মজীবী স্বামীর গ্যারান্টার হিসেবে স্বাক্ষর লাগে। যেটা বেশিরভাগ নারীরা নিতে পারেনা। আবার ঋণ পাবার সাথেই কিস্তি দেবার সময় চলে আসে। নারীদের ঋণ দিয়ে কমপক্ষে তিনমাস পরে কিস্তি চালু করতে হবে, তাহলে নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পাবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড খুলনা অঞ্চলের প্রধান আবু সাঈদ মো. আবদুল মান্নাফ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক এসএম রবিউল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনার নির্বাহী পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন খান, উপমহাব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন খান, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান ও ওয়ান ব্যাংকের এসএমই প্রধান মো. কামরুল আহসান। সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনার উপপরিচালক মাছুম বিল্লাহ।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এজন্য নারীদেরকে বাদ রেখে এগোলে হবেনা। উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশে হতে হলে নারী উদ্যোক্তাদের সাথে নিতে হবে। সেই লক্ষে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে খুুলনা বিভাগে ৫ হাজার ১৫৩ কোটি টাকার ঋণ এসএমই খাতে বিতরণ করা হয়েছে। যার ৫০ শতাংশ পেয়েছেন যশোরের উদ্যোক্তারা।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মূলধনের অভাব নেই। শুধুমাত্র নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। ঘরে বসে থাকলে হবেনা। স্বপ্ন আর সাহস নিয়ে সামনে এগিয়ে আসলে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবেনা। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। নারীদের তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার খুঁজতে হবে। তা না হলে হোঁচট খেতে হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যাংকাররা যদি নারী উদ্যোক্তাদের হয়রানি করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শেয়ার