শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে আকস্মিক পরিদর্শনে গেলেন যবিপ্রবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান যাচাই, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় হলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, হলের আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে আকস্মিক পরিদর্শনে যান যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা।
হল পরিদর্শনের সময় অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন প্রথমে হলের ডাইনিংয়ের রান্না ঘরে যান। রান্না ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে হলের খাবার রান্না সনাতন পদ্ধতিতে লাকড়ির চুলায় হওয়ায় রান্না ঘরের চালে কালি-ঝুলি হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, রান্না ঘরে অবিলম্বে গ্যাসের চুলা বসবে এবং বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তুকিতে এলপিজির মাধ্যমে রান্না করা হবে। হলের ডাইনিংয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবানু মুক্ত পরিবেশে রান্না-বান্না এবং খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এরপর যবিপ্রবি উপাচার্য হলের ডাইনিংয়ের প্রধান বাবুর্চিকে ছাত্রদের জন্য রান্না করা দুপুরের খাবার দেখাতে বলেন। বাবুর্চি খাবার দেখালে তিনি ছাত্রদের ডেকে জিজ্ঞাসা করেন ২৫ টাকায় এমন খাবার খেতে পেরে তারা সন্তুষ্ট কি না। উপস্থিত ছাত্ররা জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি হলের ছাত্রদের সঙ্গে খাবার গ্রহণের পর ডাইনিং পরিচালনা কমিটির পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ডাইনিংয়ের খাবারের মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। উপাচার্যকে হলের সার্বিক বিষয়ে সদয় দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করেন ছাত্ররা। এ সময় যবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, সব সময় তিনি হলের বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। সপ্তাহের যেকোনো দিন তিনি হলের ডাইনিংয়ে খাবার খেতে আসবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ^স্ত করেন।
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এরপর বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় হলের প্রবেশপথ, সিঁড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য হলের বিভিন্ন ফ্লোর পরিদর্শন করেন। হল র‌্যাগিং, মাদক ও টর্চার সেল মুক্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হলগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। পরে তিনি হলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম তদারকি করেন এবং হল প্রশাসনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের ডিনস্ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক শেখ মিজানুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নাজমুল হাসান, প্রধান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারি, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন, সহকারী প্রভোস্ট ড. মো. ওবায়েদ রায়হান, মো. মজনুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান, উপাচার্যের একান্ত সচিব মাসুম বিল্লাল প্রমুখ।

শেয়ার