যশোর হাসপাতালে রোগী সেবায় আরও তিন কর্নার স্থাপন
যুক্ত হলো কোটি টাকার কলপোস্কপি যন্ত্র

এস হাসমী সাজু
ভিড় সামলে রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে তিনটি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। ডায়বেটিক, প্রেসার, আর্সেনিক, শিশুদের পুষ্টিহীনতা, ক্যান্সারের মতো রোগের চিকিৎসা মিলবে এই কর্নারগুলোতে। যেখান থেকে সার্বক্ষনিক চিকিৎস সেবা মিলবে। এছাড়া, গতকাল ‘কলপোস্কপি’ নামে একটি কোটি টাকার যন্ত্র যশোর জেনারেল হাসপাতালে যুক্ত হয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে জরায়ু ক্যান্সার সহজেই পরীক্ষা করা যাবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, যশোর জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যা হলেও প্রতিদিন গড়ে এখানে ৪০০ রোগির বেশি ভর্তি থাকে। আর আউট ডোর থেকে চিকিৎসা নেন দুই হাজারেরও বেশি রোগী। এমন রোগীর ভিড়ে হাসপাতালের জনবল সংকট রয়েছে। এসময় পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ নিয়েছে।
জানা যায়, রোববার এনসিডি, আইএমসিআই ও ক্যান্সার নামে তিনটি পৃথক কর্নার চালু করা হয়েছে। এরমধ্যে করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় চালু হয় এনসিডিতে ডায়াবেটিক, থায়রয়েড, প্রেসার, আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া হবে। শিশু বর্হিবিভাগের সামনে স্থাপন করা হয়েছে আইএমসিআই কর্নার। যেখানে একদিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টিসহ সবধরনের সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হবে। আর গাইনি বর্হিবিভাগের পাশের রুমে স্থাপন করা হয়েছে ভায়া ক্যান্সার টেস্ট কর্নার। এখানে স্থাপন করা হয়েছে কলপোস্কপি নামে একটি মেশিন। কোটি টাকার এই মেশিনটি সাধারণত মেডিকেল কলেজে থাকে। সারাদেশে জেলা পর্যায়ে হাসপাতালের মধ্যে যশোরেই প্রথম এই মেশিন স্থাপন করা হলো।
এসব কর্নারে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন ড. অমিয় দাস ও নূর জাহান্নাতসহ মোট পাঁচজন। সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এসব কর্নারে চিকিৎসকরা অবস্থান করবেন। আর অন্য সময় রোগী আসলে অনকলে ডাক্তার এসে সেবা প্রদান করবেন।
এব্যাপারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, রোগীর চাপ সামলে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পৃথক তিনটি কর্নার চালু করা হয়েছে। আর কলপোস্কপি কপি মেশিনটি মূলত যশোর মেডিকেল কলেজের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিলো। তবে যশোর অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার কথা বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে মেশিনটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এই মেশিন আর পৃথক কর্নার স্থাপনের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা আরো খানিকটা নিশ্চিত হবে।