যশোরের ১৭৬টিসহ ১১ হাজার ৬০৪ বাড়ি উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

রঙ্গিন ঘরে রঙ্গিন স্বপ্ন অসহায়দের

জাহিদ হাসান
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দুঃস্থ পরিবারে প্রতিবন্ধী গোলাম মোস্তাফা ও মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রাবেয়া বেগম। তাদের কিছু জমি থাকলেও ভাল একটি ঘর নির্মাণের সামর্থ ছিল না। তারা বাস করতেন ভাঙ্গা ঘরে। একটু বৃষ্টি হলেই বিছানায় গড়িয়ে পড়তো পানি। আকাশে মেঘ দেখলেই দৌঁড় দিতেন অন্যের ঘরে। সরকার তাদের ঘর করে দিয়েছে। একটি রঙিন রঙের পাকা ঘরে ঘুমাতে পারছেন তারা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেছেন। গতকাল যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে ঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছেন তারা। শুধু তাদের নয়; যশোরের গরীব ও অসহায় এমন ১৭৬ পরিবারকে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ সহনীয় এমন বাড়ি। গতকাল যশোর জেলা প্রশাসক কালেক্টরেট অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যশোরের ওই ঘরগুলোর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যশোরের ১৭৬টি ঘরসহ প্রধানমন্ত্রী ৬৪ জেলায় ১১ হাজার ৬০৪টি দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি ও ১৪ জেলায় ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীগুলোতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা সেগুলো ড্রেজিং করছি। তাছাড়া ভাঙন রোধে নদীশাসন ও বাঁধ দেওয়ার কাজ চলছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কর্তব্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো। দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে জাতির পিতা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করেছিলেন। তৎকালীন রেডক্রসকে সঙ্গে নিয়ে সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় ৪৫ হাজার ভলান্টিয়ারকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার রয়েছে। স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডসও দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে।’ সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা যখনই সরকারে এসেছি, দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিয়েছি। দুর্যোগের সময় প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি।’
সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূটির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় যশোর জেলায় দুর্যোগ সহনীয় ১৭৬টি বাড়ি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলার অস্বচ্ছল, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা, এতিমদের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণে বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই লক্ষে যশোর জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে শার্শায় ৫৯ লক্ষ ৪৬ হাজার ২১৩ টাকা ব্যয়ে ২৩টি বাড়ি, চৌগাছা উপজেলায় ৬২ লক্ষ ৪ হাজার ৭৪৪ টাকা ব্যয়ে ২৪টি বাড়ি, সদর উপজেলায় ৫১ লক্ষ ৭০ হাজার ৬২০ টাকা ব্যয়ে ২০টি বাড়ি, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৫৪ লক্ষ ২৯ হাজার ১৫১ টাকা ব্যয়ে ২১ বাড়ি, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৫৯ লক্ষ ৪৬ হাজার ২১৩ টাকা ব্যয়ে ২৩টি বাড়ি, অভয়নগর উপজেলায় ৫১ লক্ষ ৭০ হাজার ৬২০ টাকা ব্যয়ে ২০ বাড়ি, মণিরামপুর উপজেলায় ৫৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৮২ টাকা ব্যয়ে ২২ বাড়ি ও কেশবপুর উপজেলায় ৫৯ লক্ষ ৪৬ হাজার ২১৩ টাকা ব্যয়ে ২৩টি বাড়িসহ সর্বমোট ১৭৬ টি বাড়ির জন্য ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ ০১ হাজার ৪৫৬ টাকা ব্যায় করা হয়েছে। যা প্রতিটি বাড়িতে একটি করে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, ১টি রান্নঘর, টিউবয়েল ১টি ও ২টি রুম রয়েছে।
এ বিয়য়ে যশোর ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম সমাজের কথাকে জানান, প্রতিটি বাসগৃহ নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা। কিছু দিনের মধ্যেই ওইসব বাসগৃহের নামফলক উন্মোচন করা হবে। নামফলকে লেখা থাকবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম।
এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, এই কাজটি সরকারের খুবই প্রশংসিত উদ্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। যশোর জেলায় ১৭৬টি দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান আরো বৃদ্ধি পেলো।
এর আগে রোববার আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রঙ্গনে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালির উদ্বোধন করেন যশোর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিউল আরিফ। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্য্যলয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি শেখ, জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন প্রমুখ। আলোচনা শেষে যশোর কালেক্টরেট স্কুলে ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড বিষয়ক ফায়ার সার্ভিস মহড়া প্রর্দশন করেন।

শেয়ার